শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বর্ণিল আবহে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজ অডিটরিয়ামে সকাল ১০টায় প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ওয়ালী নেওয়াজ খান সাহেবের পরিবারের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্মৃতির পাতা উল্টে অতীতের গৌরব ধারণ করে নতুন দিনের প্রত্যয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। অতীতের গৌরব স্মরণ করে নতুন দিনের সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত সবাই।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে ডানা মেলতে সহায়তা করেছে এ বিদ্যাপীঠ। জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের আলোয় প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আলোকিত করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বক্তব্য রাখেন আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি রাফিউল করিম মুরাদ, প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক, কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এ.কে.এম. বদরুদ্দোজা, এইচএসসি (বিএমটি) শাখার শিক্ষক এ.কে.এম. মোজাম্মেল হক ভূঞা, ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুক সাদী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রমজান হোসেন, সাবেক শিক্ষার্থী মো. হুমায়ুন কবীর এবং বর্তমান শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল তাসফি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে কলেজের দীর্ঘ ও গৌরবময় পথচলা, শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটির অনন্য অবদান এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, মেধা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজটি শুধু উচ্চশিক্ষার সুযোগই সৃষ্টি করেনি; বরং শিক্ষার্থীদের যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
বক্তারা ভবিষ্যতে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চার পরিধি সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশে কলেজটি আরও কার্যকর ও সমৃদ্ধ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ওয়ালী নেওয়াজ খানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুক সাদী।
১৯৮২ সালের ১৯ আগস্ট নিজ নামে কলেজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ওয়ালী নেওয়াজ খান কিশোরগঞ্জের উচ্চশিক্ষার পরিসরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছিলেন। এর আগে পিতা-মাতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারাপাশা এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘আরজত-আতরজান হাইস্কুল’। তাঁর দূরদর্শী সেই উদ্যোগের আলো আজও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ছে। ৪৪ বছরের পথচলা তাই কেবল সময়ের হিসাব নয়, এটি স্বপ্ন, সাধনা, সাফল্য ও আলোর এক দীপ্ত উত্তরাধিকার।
প্রতিনিধি/আরএইচ