পাইকারি বাজারে সবজির দাম কমলেও প্রভাব নেই খুচরা বাজারে

দেশবার্তা প্রতিবেদক

অর্থ-বাণিজ্য

সবজির সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীর পাইকারি বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম কমলেও খুচরা বাজারে এর পুরো প্রভাব পড়ছে না। আড়ত

2026-08-21T16:04:42+06:00
2026-08-21T16:04:42+06:00
শুক্রবার ● ২১ আগস্ট ২০২৬,
৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 ইপেপার   ভিডিও 

শুক্রবার ● ২১ আগস্ট ২০২৬
চলমান বার্তা:
অর্থ-বাণিজ্য
ডিম-মাছের বাজার চড়া, কমেছে মুরগির দাম
পাইকারি বাজারে সবজির দাম কমলেও প্রভাব নেই খুচরা বাজারে
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
সবজির সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীর পাইকারি বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম কমলেও খুচরা বাজারে এর পুরো প্রভাব পড়ছে না। আড়ত থেকে খুচরা বাজারে আসতেই অনেক সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ডিম ও মাছের বাজারে বাড়তি দামের চাপ অব্যাহত থাকলেও সোনালি ও লেয়ার মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে একদিকে কিছু সবজির দাম কমলেও অন্যদিকে ডিম, মাছ ও মুরগির দামের ওঠানামায় চাপে রয়েছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুর-১ আড়ত, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, টানা ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। মিরপুর-১ আড়তে শুক্রবার সকালে উত্তরবঙ্গের প্রায় ২০ থেকে ২২ জেলার সবজি আসে। সরবরাহ বাড়ায় গত কয়েক দিনে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

পাইকারদের ভাষ্য, বর্তমানে বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত। বরবটি, ঝিঙা, বেগুন, মুলা, করলা, লাউ, ঢ্যাঁড়শ ও কাঁচামরিচসহ বেশিরভাগ সবজি তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির অনেকগুলো পাইকারি বাজারে ৩০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে ফুলকপি ও নতুন শিমের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি।

পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা পর্যায়ে এসে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। আড়তে ৩০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া অনেক সবজি খুচরা বাজারে ৭০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে দামের এত পার্থক্য নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তাঁরা নিজেরাই বেশি দামে সবজি কিনে আনছেন। ফলে পরিবহন ও অন্যান্য খরচের সঙ্গে তাঁদের নির্ধারিত লাভ যোগ করে খুচরা দাম ঠিক করতে হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, একই পণ্যের দাম বাজারভেদে ভিন্ন এবং কোথাও কোথাও বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছেন।

কারওয়ান বাজারে পটল, শসা ও ঢ্যাঁড়শ কেজি ৬০ টাকা, করলা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল ও মুলা ৮০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে শিম ২০০, গাজর ১৪০, টমেটো ১৩০, বেগুন ১২০, বরবটি ১০০ এবং কাঁচামরিচ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, কয়েক ধরনের সবজি মৌসুমি না হওয়ায় সরবরাহ কম। তবে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমার সুযোগ রয়েছে।

এক ক্রেতা বলেন, ‘সবজির দাম এখন মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। পটল, ঢ্যাঁড়শ ও বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে টমেটো আর গাজরের দাম এখনো বেশি।’

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও মাছের বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি।

চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে। দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা। ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার টাকায়।

মাছ বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করেই দাম ওঠানামা করছে। বড় মাছের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় রুই-কাতলার দাম বেড়েছে। বাজারে সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে বলে জানান তাঁরা।

এদিকে রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে ডিমের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ টাকা বেড়ে লাল ডিম ১৫০ এবং সাদা ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য বাজারে সাদা ডিমের ডজন ১৩০ এবং বাদামি ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। পাড়া-মহল্লার দোকানে ডিমের দাম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

ডিম বিক্রেতা সোলেয়মান বলেন, ‘পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। আমরা বেশি দামে কিনলে খুচরাতেও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। সরবরাহ বাড়লে দাম আবার কমতে পারে।’

অন্যদিকে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি ও লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা করে কমেছে। সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ এবং লেয়ার ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি বিক্রেতা মনির বলেন, ‘সোনালি ও লেয়ারের সরবরাহ কিছুটা ভালো হওয়ায় দাম কমেছে। ব্রয়লারের ক্ষেত্রে তেমন পরিবর্তন নেই। বাজারে যে দামে আসছে, সে অনুযায়ীই আমাদের বিক্রি করতে হচ্ছে।’

বাজারের এই ওঠানামায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাঁদের অভিযোগ, আয় না বাড়লেও প্রতিদিনের বাজার খরচ বাড়ছে। মাছ, ডিম ও মুরগির বাড়তি দামের পাশাপাশি খুচরা বাজারে সবজির দামের অস্বাভাবিক ব্যবধানও তাঁদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

ক্রেতাদের দাবি, শুধু বাজার মনিটরিংয়ের আশ্বাস নয়, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত কার্যকর মূল্যব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কোথায় কত দামে পণ্য কেনা ও বিক্রি হচ্ছে, তা নজরদারির আওতায় আনা গেলে পাইকারি বাজারে কমে যাওয়া দামের সুফল খুচরা ক্রেতারাও পাবেন।

দেশবার্তা/এসআইএস/একে


সর্বশেষ সংবাদ 

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদের দৌড়ে পাঁচ নারীসহ ৮ প্রার্থী
মির্জা ফখরুল ইসলামকে অভিনন্দন জানালেন ভারতের রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ
শপথ নিলেন নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সর্বাধিক পঠিত 

মাদকবিরোধী সংবাদ প্রচারে অবদান রাখায় সম্মাননা পেলেন সাংবাদিক হাসান মামুন
পর্নোগ্রাফি তৈরি-বিক্রি: রাজধানীতে ইনফ্লুয়েন্সার গ্রেপ্তার
যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন প্রণয়নের দাবি মহিলা পরিষদের
অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ
রাণীনগরে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি, দুই ডিলারকে জরিমানা
অর্থ-বাণিজ্য- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]