এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে পানির স্তর কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আগামী সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে পানামা খালে জাহাজ চলাচল সীমিত করা হবে। গতকাল পানামা খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামনে শুষ্ক আবহাওয়ার আশঙ্কা থাকায় প্রতিদিন কতটি জাহাজ খাল দিয়ে চলাচল করতে পারবে, তার সীমা নির্ধারণ করা হবে। খবর আল জাজিরা।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩৪টি জাহাজ পানামা খাল দিয়ে চলাচল করতে পারবে। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই সংখ্যা কমিয়ে ৩২টি করা হবে।
এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আগের অবস্থান থেকে সরে এল পানামা খাল কর্তৃপক্ষ। মে মাসে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, গত বছর পানি সংরক্ষণে নেয়া পদক্ষেপের কারণে ২০২৬ সালে জাহাজ চলাচলে কোনো সীমা আরোপের পরিকল্পনা তাদের নেই।
বিশ্বের সমুদ্রপথে বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ পানামা খালের ওপর দিয়ে হয়। সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ৪০টি জাহাজ চলাচলের সক্ষমতা রয়েছে খালটির। তবে জুন থেকে সেখানে প্রতিদিন গড়ে ৩৫টি জাহাজ চলাচল করেছে।
খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে এর ওপর নির্ভরশীল শিল্পগুলোর আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন ধীর হয়ে যেতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয়ও বাড়তে পারে।
এর আগে ২০২৩ সালে ভয়াবহ খরার কারণে পানামা খালে জাহাজ চলাচল প্রায় ৩৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।
ওই বছর পানির স্তর কমে যাওয়ার জন্য এল নিনোর পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কারণে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনকে দায়ী করা হয়েছিল।
পানামা খাল কর্তৃপক্ষ এর আগেও পানি সংরক্ষণের জন্য জাহাজ চলাচলে সীমা আরোপ করেছে।
খালটি একটি লক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই ব্যবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ক্যারিবীয় সাগরে এবং বিপরীত দিকে যাওয়ার সময় জাহাজকে ধাপে ধাপে ওপরে তোলা ও নিচে নামানো হয়।
তবে এই খালের পানি সরবরাহের একটি বড় অংশ আসে আশপাশের হ্রদ ও জলাধার থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গাতুন হ্রদ।
আবার পানামার মানুষও ওই হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে রাজধানী পানামা সিটিসহ আশপাশের শহরগুলোয় পানীয় জল সরবরাহে এটি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে খরার সময়ে পানির সংকট দেখা দিলে পানামা খালের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
দেশবার্তা/এমআর