ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এতে ইরানের প্রধান বাণিজ্য সহযোগী দেশগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বাধানিষেধের মুখে বাণিজ্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে যাওয়া দেশগুলোর চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো-
চীন: ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরান চীন থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি এবং ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। ইরান মূলত কেমিকেল ও হাইড্রোকার্বন রপ্তানি করে এবং চীন থেকে শিল্পযন্ত্র, ইলেকট্রনিক্স ও গাড়ি আমদানি করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: সম্প্রতি বাণিজ্য স্থগিতের আগ পর্যন্ত ইউএই ছিল ইরানের অন্যতম বাণিজ্য সহযোগী। ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ (প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার) এসেছে আমিরাত থেকে। চলতি বছরের শুরুর তথ্য অনুযায়ী, দেশটি থেকে আমদানির পরিমাণ চীনকেও ছাড়িয়ে যায়।
তুরস্ক: ইরানের শুল্ক কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের শেষ ভাগে ১০ মাসে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছাড়ায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। তুরস্ক ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ হাইড্রোকার্বনজাত পণ্য আমদানি করে।
রাশিয়া: আন্তর্জাতিক নানা চাপ সত্ত্বেও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সোনা, শস্য ও কৃষিপণ্য বিনিময়ের পাশাপাশি দুই দেশ কাস্পিয়ান সাগরে নতুন নৌপথ চালু করেছে।
ইরাক ও ভারত: মধ্যপ্রাচ্যে ইরাকে ইরানের রপ্তানি ছিল ৭ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ২০১৮-১৯ সালের ১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১ দশমিক ৭ বিলিয়নে নেমে এলেও দেশটি বিকল্প উপায়ে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রেখেছে।
ইউরোপ ও এশিয়া: ইউরোপের দেশ জার্মানির সঙ্গেও ইরানের কোটি ইউরোর বাণিজ্য রয়েছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কা, জাপান ও ফিলিপাইনের মতো এশীয় দেশগুলোর সঙ্গেও ইরানের নির্দিষ্ট পরিমাণের রপ্তানি ও আমদানি বাণিজ্য চালু রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের নতুন কঠোর অবস্থান বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক বাজারে বিশেষ করে জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নতুন করে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
দেশবার্তা/একে