সাংগঠনিকভাবে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বিএনপি। এবার দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ দলের নেতাকর্মীদের দিলেন সতর্ক বার্তা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্ম করলে কোন ছাড় হবে না।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই নেতাকর্মীদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত থেকে দলকে শক্তিশালী করতে হবে।
এর আগে তিনি দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করেন
রিজভী আহমেদ বলেন, তাঁর প্রধান দায়িত্ব হবে দলকে সুশৃঙ্খল ও সুসমন্বিতভাবে পরিচালনা করা। দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সে দিকেই তিনি কাজ করবেন।
তিনি বলেন, জনগণের শুভেচ্ছা ও সমর্থন নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে। তাঁর ঘোষিত কর্মসূচিগুলো জনগণের স্বার্থ, মানবকল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করতে হবে এবং সরকারের পদক্ষেপগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।
রিজভী বলেন, দলের নেতাকর্মীরা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে কেউ অনৈতিক চিন্তা করার সুযোগ পাবে না। সরকারের প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, জনস্বার্থের বাইরে বিএনপি কোনো কাজ করবে না।
বিএনপির জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জনকল্যাণে কাজ করেছেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের আর্থিক উন্নয়নে তাঁদের নেওয়া পদক্ষেপ বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। তাঁদের ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান নতুন কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন, যেগুলো জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দলের নেতাকর্মীরা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন এবং জনগণের কাছে তা তুলে ধরবেন। এর মাধ্যমে বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দলের নাম ভাঙিয়ে যারা নানা ধরনের অপকর্মে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই কেউ অনৈতিক কাজ করবেন না, গঠনমূলক কাজে থাকবেন এবং দলকে শক্তিশালী করবেন। নেতাকর্মীরা যাতে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারেন, সেই চেষ্টা করতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন, উপজেলা, থানা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন। কারণ এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না। তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর পাশে থাকবেন এবং একজন দলীয় সমর্থিত ব্যক্তি অবশ্যই নির্বাচিত হবেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
দেশবার্তা/একে