আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরান যেকোনো সময় আকস্মিক হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিউনিশিয়ায় দায়িত্ব পালন করা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জয়ে হুড। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের সময়টিকেই তেহরান হামলার জন্য বেছে নিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই মার্কিন কূটনৈতিক এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিকভাবেই মার্কিন প্রেসিডেন্টদের নির্বাচনকালে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার এক ধরনের প্রবণতা ইরানের রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে জয়ে হুড বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বিব্রতকর পরিস্থিতি ফেলার ইতিহাস আছে ইরানের। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় তারা এ কাজ করে। জিমি কার্টার থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সব প্রেসিডেন্টের সময় তারা এ কাজ করেছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরায়েলের নির্বাচন হচ্ছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির জন্য এটি ইরানের জন্য বড় একটি সুযোগ। বিশেষ করে তারা জানে, মার্কিন ভোটাররা পেট্রোলের দাম নিয়ে অনেক বেশি স্পর্শকাতর। যেমনটা আরব ভোটাররা রুটির দামের ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর।’
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো প্রত্যক্ষ আলোচনা চলছে না জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মাঝে বড় ধরনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে এই অচলাবস্থা কাটাতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এগিয়ে এলে সমস্যার সমাধান সম্ভব হতে পারে।
এ বিষয়ে সাবেক এই রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি মনে করি মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যদি চমকপ্রদ কিছু না নিয়ে আসতে পারে তাহলে কূটনৈতিক তৎপরতার আসলে খুব বেশি দাম নেই।’
সম্ভাব্য সমাধানের পথ বাতলে দিয়ে জয়ে হুড বলেন, মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো এখানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, যেমন মক্কা চুক্তির দেশগুলো যদি তাদের নৌশক্তি নিয়ে উপসাগর ও উত্তর আরব সাগরে আসে এবং বলে, আমরা হরমুজ প্রণালিতে নজরদারি করব, কোনো জাহাজে আর হামলা হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধেরও কোনো প্রয়োজন নেই।
দেশবার্তা/একে