সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধানে কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ জন্য দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
দুদকের সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, দিলশাদ নাহার কাকলী মিরপুর ডিওএইচএসের ঠিকানায় বসবাস করেন। তাঁর দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধানের জন্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা এবং তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিধি মোতাবেক যাচাই ও অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে দুদকে আবেদন করেন এক আইনজীবী। জেনারেল আজিজ ২০২১ সালের ২৩ জুন সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসরে যান। অবসরের প্রায় তিন বছর পর ২০২৪ সালের মে মাসে তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ এবং তাঁর দুই ভাই হারিস আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ জোসেফের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানের আওতাধীন অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বাড়ি-ফ্ল্যাট কেনা এবং বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে আলিশান বাংলো নির্মাণ। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এমন একটি বাংলো নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া মিরপুর ডিওএইচএসে বাড়ি এবং ঢাকার নিকুঞ্জ-১-এর ৬ নম্বর সড়কে ‘আজিজ রেসিডেন্স’ নামে একটি বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দুই ভাইয়ের নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ জমি কেনার অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।
দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনা ও বাড়ি কেনার অভিযোগও রয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
দিলশাদ নাহার কাকলীর সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাঁর দাখিল করা সম্পদের তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না এবং কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
দেশবার্তা/এমআর