ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সত্য নিকেতন এলাকায় ছয়তলা বিশিষ্ট একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে আকস্মিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের জীবিত উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন দেশটির ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা।
কর্মকর্তারা জানান, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে অতিথিদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটি হঠাৎ ধসে পড়ে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা জানতে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকে আছেন, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশ সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্থানীয় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থা উদ্ধারকাজে যৌথভাবে অংশ নিয়েছে।
ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেটির ভেতরে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার ছুটির দিন হওয়ায় তাঁদের অধিকাংশই নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
উদ্ধারকাজে উপস্থিত এক শিক্ষার্থী জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অনেকের বাঁচার আকুতি ও বাঁচানোর আহ্বান শোনা যাচ্ছে।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, ধসে যাওয়া ভবনের আশপাশে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ জড়ো হয়েছেন। ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছানোর আগেই তারা নিজস্ব উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা শুরু করেন। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে আটকা পড়া এক ব্যক্তিকে নিরাপদে বের করে আনতে স্থানীয় বাসিন্দারা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ঘটনার পর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, স্থানটিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান চলছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির পাশের ভবনটি খালি করে দেওয়া হয়েছে। আটকে পড়া ব্যক্তিদের দ্রত উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ভবনধসের পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় বিজেপির বিধানসভা সদস্য (এমএলএ) অনিল শর্মা। উদ্ধারকাজের অগ্রগতি নিয়ে তিনি জানান, ঘটনার পরপরই দুইজনকে উদ্ধার করা হয়। ভেতরে আটকে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বলেও তিনি তথ্য নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, সত্য নিকেতন এলাকাটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের ঠিক পাশেই অবস্থিত একটি ঘনবসতিপূর্ণ ছাত্রাবাস এলাকা। দুর্ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোও সক্রিয়ভাবে উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে।
দেশবার্তা/একে