জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে আঞ্চলিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় এবারের নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জয় পেলে এই প্রথম কোনো রাজ্যে সরকার গঠনের সুযোগ পাবে দলটি।
এ নির্বাচনে প্রায় ১৭ লাখ ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় জোট সরকারের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনকে ফেডারেল সরকারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত কয়েক মাসের জনমত জরিপে এএফডি ৪০ শতাংশের বেশি সমর্থন পেয়েছে। বর্তমানে রাজ্যটিতে মধ্য-ডানপন্থি ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)-এর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।
এএফডিকে রাশিয়ার প্রতি তুলনামূলক ঘনিষ্ঠ অবস্থানের দল হিসেবে দেখা হয়। দলটির স্যাক্সনি-আনহাল্ট শাখাকে ‘উগ্র ডানপন্থি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা। এ কারণে অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এএফডির সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে আসছে।
তবে এসব বাধা সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এএফডির প্রার্থী উলরিখ জিগমুন্ডের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ৩৫ বছর বয়সী এই নেতা নির্বাচনী প্রচারে ব্যতিক্রমী উপস্থিতির মাধ্যমে সমর্থকদের নজর কেড়েছেন। তাঁর প্রত্যাশা, দলটি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিগমুন্ড বলেন, অন্য দলগুলো যদি এএফডির সঙ্গে কাজ করতে না চায়, তাহলে তাঁর দল একাই সরকার পরিচালনার চেষ্টা করবে।
অন্যদিকে রাজ্য সরকারের বর্তমান প্রধান স্বেন শুলৎসে ক্ষমতা ধরে রাখতে আবারও জোট গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনের ফলাফলই এখন ঠিক করবে, স্যাক্সনি-আনহাল্টে ক্ষমতার পালাবদল ঘটছে কি না এবং জার্মানির রাজনীতিতে এএফডির প্রভাব কতটা বাড়ছে।
দেশবার্তা/এমআর