বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে গুলিশাখালী ফাজিল স্নাতক মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা এম. এ. বারী হাওলাদারের চুক্তিভিত্তিক পুনঃনিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিশাখালী ফাজিল স্নাতক মাদ্রাসা চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে মাদ্রাসার পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা এম. এ. বারী হাওলাদার চলতি বছরের ২৯ জুন অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পরে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একটি চিঠির মাধ্যমে তাঁকে বিনা বেতনে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয়। চিঠি অনুযায়ী, এ পুনঃনিয়োগের মেয়াদ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৭ পর্যন্ত।
পুনঃনিয়োগের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাঁদের দাবি, অবসর গ্রহণের পর সাবেক অধ্যক্ষকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিধিসম্মত কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, পুনঃনিয়োগের চিঠির পর সাবেক অধ্যক্ষ তাঁর লোকজন নিয়ে মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মাদ্রাসার মূল ফটক ও অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেওয়া হয়। তবে এর মধ্যেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হয়।
পরে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা চত্বরে প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা সাবেক অধ্যক্ষের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। এ সময় সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আব্দুল্লাহ মাসুদ, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার ছেলে ফজলুর রহমান খানসহ শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা সাবেক অধ্যক্ষের চুক্তিভিত্তিক পুনঃনিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক পরিবেশ বজায় রাখতে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধান করতে হবে।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল্লাহ বলেন, “গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, পুনঃনিয়োগের বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা এম. এ. বারী হাওলাদার বলেন, “অবসরের পর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে এক বছরের জন্য বিনা বেতনে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু কতিপয় শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে নামিয়েছেন এবং আমার সম্মানহানি করার চেষ্টা করছেন। আমি এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চাই।”
এ ঘটনায় মাদ্রাসা এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রতিনিধি/আরএইচ