ইরানের আশপাশের জলসীমায় জাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। শনিবার তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। এর জবাবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জাহাজকে লক্ষ্য করার কথা জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দুটি মার্কিন নৌযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তিনটি ইরানি জাহাজে হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এর মধ্যে একটি হামলা চালানো হয় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, মার্কিন নৌযানে হামলা চালানো হলে এর জবাবে ইরানের ওপর আরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য চাপিয়ে দেওয়া হবে।
এরপর আইআরজিসি ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক জাহাজে আরও তীব্র হামলার হুমকি দেয়। পরে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি জাহাজকে লক্ষ্য করার কথা জানায় তারা।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপের নোঙর এলাকায় একটি ট্যাংকারে চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রের বরাতে সংস্থাটি জানায়, হামলার সময় জাহাজটির নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রও জানিয়েছে, তাদের কোনো সেনা আহত হয়নি।
ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েছে। গত ৩১ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে খার্গ দ্বীপকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার দৃশ্য দেখানো হয়।
এর আগে জুনে ট্রাম্প খার্গ দ্বীপ দখলের ইচ্ছার কথা বললেও পরে সেখানে সামরিক অভিযান আপাতত বাতিলের কথা জানিয়েছিলেন।
যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান তার অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ খার্গ দ্বীপ দিয়ে রপ্তানি করত। তবে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানিতে নৌ অবরোধ শুরু করার পর দেশটির তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পর ওই অঞ্চলে নৌ অবরোধ আরও জোরদার করে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ২৮ ডলারে ওঠে, যা ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেস নির্বাচন সামনে থাকায় দেশটির অভ্যন্তরেও যুদ্ধ নিয়ে বিরোধিতা বাড়ছে।
দেশবার্তা/এমআর