যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ না করে তা আরও দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা করছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে শনিবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সামরিক হামলা চালানোর সক্ষমতা নিয়ে তেহরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। মূলত ওয়াশিংটনকে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়িয়ে রেখে একটি চরম বিব্রতকর ও সুবিধাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি করাই ইরানের বর্তমান প্রধান কৌশল।
সাম্প্রতিক সময়ে দুদেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাগুলো তুলনামূলক সীমিত পরিসরে থাকলেও ইরান যেকোনো সময় এই উত্তেজনা নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাথে আলাপে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির সঙ্গে সরাসরি সামরিক মুখোমুখি হয়ে ইরান তাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রকৃত শক্তি ও সীমাবদ্ধতা মূল্যায়ন করতে পেরেছে। একই সাথে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ইরানের সাথে এই মুহূর্তে ওয়াশিংটনের কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। তাদের মতে, আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বেকায়দা পরিস্থিতিতে ফেলাও তেহরানের অন্যতম রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইরান নিজেদের দিক থেকে উত্তেজনা বাড়িয়ে যাওয়ার কৌশল গ্রহণ করতে পারে। এর অংশ হিসেবে গত জুলাই মাসের মতো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা কিংবা প্রতিবেশী দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে পুনরায় লক্ষ্যবস্তু বানানোর ঝুঁকি রয়েছে।
এছাড়া ইরানি হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে বলেও সতর্ক করেছে গোয়েন্দা সূত্র। সাধারণ আমেরিকানদের সাইবার স্পেসে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে মার্কিন জনমনে প্রবল যুদ্ধবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলাই এদের মূল উদ্দেশ্য।
দেশবার্তা/একে