পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশটির সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে একজন একক কর্মকর্তার আইনি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে। আগস্টের শেষের দিকে জাতীয় পরিষদে পাস হওয়া ‘ডিফেন্স ফোর্সেস অব পাকিস্তান অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর আওতায় ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) নামে নতুন এ পদটি তৈরি করা হয়। পদটিতে আসীন হয়ে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির পাকিস্তানের প্রথম সিডিএফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি একইসঙ্গে সেনাপ্রধান ও সিডিএফ উভয় পদেই বহাল থাকবেন।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ তথ্য জানিয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক ইতিহাসে আগে কখনও কোনো একক কর্মকর্তাকে একইসঙ্গে তিন বাহিনীর ওপর এমন আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এটি ১৯৭৬ সালের পর দেশটির সামরিক কমান্ড ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় ধরনের পুনর্গঠন। এতদিন তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য ‘চেয়ারম্যান অব দ্য জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি’ পদটি ছিল। তবে তৎকালীন সেই পদের নৌ বা বিমান বাহিনীকে পরিচালনা করার কোনো আইনি কর্তৃত্ব ছিল না।
নতুন সৃষ্ট সিডিএফ পদটি আগের সমন্বয়কারী পদ থেকে পুরোপুরি আলাদা। এই পদে আসীন কর্মকর্তাকে তিন বাহিনীর ওপর সরাসরি আইনি সশ্রদ্ধ পরিচালনা ক্ষমতা বা অপারেশনাল কমান্ড দেওয়া হয়েছে। সিডিএফ সরাসরি ফেডারেল সরকারের কাছে জবাবদিহি করবেন এবং কেবল সুপারিশ বা প্রস্তাব পেশ না করে সিদ্ধান্ত সরাসরি বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাখবেন।
রাওয়ালপিন্ডির একজন অবসরপ্রাপ্ত থ্রি-স্টার জেনারেল আল জাজিরাকে জানান, নতুন আইনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের ইউনিট পর্যন্ত একটি স্পষ্ট লিখিত কমান্ড চ্যানেল তৈরি হয়েছে, যা আগে কাগজে-কলমে ছিল না।
সামরিক বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল নাঈম খালিদ লোদি উল্লেখ করেন, সিডিএফ এখন একজন ‘প্রকৃত কমান্ডার’, যা আগের পুরোনো সমন্বয়কারী পদের ক্ষেত্রে ছিল না।
মূলত চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস পদটি আগের ‘চেয়ারম্যান অব দ্য জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি’ পদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আগের পদের কাজ কেবল সমন্বয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও সিডিএফ এর হাতে তিন বাহিনীর ওপরই সরাসরি পরিচালনার কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির দেশটির প্রথম কর্মকর্তা হিসেবে এই শীর্ষ দায়িত্ব পেলেন।
দেশবার্তা/একে