জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ১২টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন পায়। পরে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভার বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকী।
প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদিত মোট খরচের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এছাড়া বৈদেশিক ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয়ে হবে ৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অনুমোদিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে ৭টি নতুন এবং ৫টি সংশোধিত।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৫টি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫): সাউদার্ন রুট, রাজশাহী সড়ক জোনের জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ, চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়কসমূহ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (৩য় পর্যায়), ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫): নর্দান রুট (১ম সংশোধিত) এবং ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১) (১ম সংশোধিত)।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আওতায় দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে ইলেকট্রিক ট্রাকশন চালুকরণ এবং বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুমোদিত হয়েছে দুটি প্রকল্প বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন (২য় পর্যায়) এবং খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসন সুবিধাসহ অন্যান্য পরিকাঠামো নির্মাণ। এছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ‘টেক্সটাইল ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত) এবং মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আপগ্রেডেশন ও সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পও এ সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত আরও ১৫টি প্রকল্প একনেক সভায় অবগতির জন্য উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে ইতোমধ্যেই অনুমোদন করেছেন। বিধি অনুযায়ী তা একনেক কমিটিকে অবহিত করা হয়।
পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন (২য় সংশোধিত), বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তর নির্মাণ (১ম সংশোধিত), ভাসানচরে গ্রিন বেল্ট প্রতিষ্ঠা ও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা প্রভাবিত এলাকায় পুনর্বনয়ন (১ম সংশোধিত), দেশি মুরগি গবেষণা, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন জোরদারকরণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন (১ম পর্যায়) (১ম সংশোধিত)।
এছাড়াও রংপুর জোনে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলী ও অন্যান্য সেতু প্রতিস্থাপন (১ম সংশোধিত), আরডিএ ভবনের ৫ম থেকে ১০ম তলা নির্মাণ, জালালাবাদ সেনানিবাসে এসআইঅ্যান্ডটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কোয়ার্টার গার্ড নির্মাণ, সিলেট বিভাগে বন্যা পূর্বাভাসের জন্য ৩ডি মডেল প্রস্তুতকরণ (১ম সংশোধিত), সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও খুলনা মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদারকরণ (এসএসপিআরআইটি) (১ম সংশোধিত), বরগুনা ও দিনাজপুর জেলা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন এবং সিলেট-১০ নম্বর অনুসন্ধান কূপ খনন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়।
দেশবার্তা/একে