দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর স্বচ্ছ ও আধুনিক প্রক্রিয়ায় যখনই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনারায় উন্মুক্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই দেশি-বিদেশি একাধিক স্বার্থান্বেষী চক্র নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করা ও দেশের উদীয়মান শ্রমবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে অপপ্রচার, মানববন্ধন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর মতো অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া সরকারের নির্ধারিত নীতি অনুযায়ী বিদেশি শ্রমিক কোটার ১৫ শতাংশ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বাংলাদেশসহ ১৫টি উৎস দেশ (সোর্স কান্ট্রি) থেকে কর্মী নেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। বাজার বন্ধ হওয়ার আগেই অনুমোদন পাওয়া ১০১টি এজেন্সি এবং তাদের অধীনস্থ সহযোগী এজেন্সিগুলো প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার কর্মী সফলভাবে পাঠায়। তবে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা ও যোগ্যতায় পিছিয়ে পড়া কিছু এজেন্সি মালিক মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ আইন ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন দেশ থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক এজেন্সি নির্বাচন করা হয়। যেমন ভারত থেকে ১০টি এবং নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি করে প্রধান এজেন্সি অনুমোদিত। বাংলাদেশ সরকার এই ২৫টি মূল এজেন্সির সাথে আরও ৩১২টি সহযোগী এজেন্সিসহ সর্বমোট ৩৩৮টি এজেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা যেকোনো উৎস দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। কিন্তু অন্য কোনো দেশে অসন্তোষ না থাকলেও বাংলাদেশে বায়রার সাবেক নেতা ফখরুল ইসলাম, রিয়াজুল ইসলাম ও আলতাব খানসহ কয়েকটি চক্র নিজেদের স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় বিষয়টিকে ‘সিন্ডিকেট’ আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রের অন্যতম সদস্য আলতাব খানের বিরুদ্ধে অতীতে মালয়েশিয়ায় অবৈধ মানবপাচারের অভিযোগে দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। অন্যদিকে, ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ছদ্মনামে একাধিক এজেন্সির সুবিধা ভোগ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাণিজ্যের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বায়রা কার্যালয়ে হামলা চালানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার কথিত প্রতিনিধি ও বিদেশি মানবাধিকারকর্মীদের দিয়ে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে দেশের শ্রমবাজারকে বেকায়দায় ফেলার অভিযোগেও পল্টন থানায় ও দুদকে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
এদিকে বর্তমান সরকার অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে নিরাপদ কর্মী পাঠাতে মালয়েশিয়া সরকারের উচ্চপর্যায়ে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শ্রমবাজার পুনঃউন্মুক্তকরণের বিষয়টি প্রাধান্য দেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (‘জিরো কস্ট’) নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘বোয়েসেল’-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে কোনো প্রকার বিমান ভাড়া বা অভিবাসন খরচ ছাড়াই এই কর্মীদের পাঠানো হবে।
শ্রমবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার যখন বেকারত্ব দূরীকরণ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে জিরো কস্টে কর্মী পাঠানোর ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করতে যাচ্ছে, তখন গুটি কয়েক অসাধু ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত স্বার্থে দেশের শ্রমবাজারকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক।
দেশবার্তা/কেএ/একে