এশিয়ান গেমসের কাবাডিতে জাপানের কাছে হেরে বাংলাদেশের পদকের আশা যখন দোলাচলে, ঠিক তখনই সুখবর এলো উশু রিং থেকে। দীর্ঘ ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসের কোনো ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশকে পদক এনে দিলেন নারী উশু খেলোয়াড় জিন্নাত আক্তার।
জাপানের নাগোয়ার টোকাই ডরি ইনডোর স্টেডিয়ামে চলমান ২০২৬ এশিয়ান গেমসে নারী ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে সেমিফাইনালে উঠে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন জিন্নাত। উশু ইভেন্টের নিয়ম অনুযায়ী সেমিফাইনালে পরাজিত দুজন অ্যাথলেটকেই ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হয়।
বিকেলে কোয়ার্টার ফাইনালে জিন্নাতের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ইন্দোনেশিয়ার প্রতিযোগী ফ্লোরেন্তিনা থারিসার। তবে অতিরিক্ত ওজনের (ওভার ওয়েট) কারণে ইন্দোনেশীয় অ্যাথলেট ডিসকোয়ালিফাইড বা অযোগ্য ঘোষিত হলে কোনো লড়াই না করেই সরাসরি সেমিফাইনালে পৌঁছে যান লাল-সবুজের প্রতিনিধি জিন্নাত।
বাংলাদেশ উশু অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও কোচ দিলদার হাসান দিলু জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘এই ইভেন্টে ১৫ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করায় নিয়ম অনুযায়ী সেমিফাইনালে ওঠা উভয় পরাজিত খেলোয়াড়ই ব্রোঞ্জ পাবেন। ফলে জিন্নাতের সেমিফাইনাল নিশ্চিতের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্রোঞ্জ জয়ও নিশ্চিত হয়েছে।’
বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদও পদকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উশু অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পদকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এবং সেমিফাইনালে ওঠায় জিন্নাতের ব্রোঞ্জ নিশ্চিত হয়েছে।
১৯৭৮ সালে এশিয়ান গেমসে অভিষেকের পর ১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়াডে বক্সার মোশাররফ হোসেন ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন, যা ছিল এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র ব্যক্তিগত পদক। পরবর্তীতে ক্রিকেট ও কাবাডিতে পদক আসলেও তা ছিল দলীয় সাফল্য। দীর্ঘ ৪ দশক পর জিন্নাত আক্তারের মাধ্যমে আবারও এশিয়াডের ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদকের দেখা পেল বাংলাদেশ।
দেশবার্তা/একে