মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে টিনের ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের সাতজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কামতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহতরা হলেন জোনাব আলী (১০৫), তাঁর ছেলে আব্দুল মোন্নাফ (৬৫), নাতি আনোয়ার হোসেন (৪০), দেলোয়ার হোসেন (২৭), পুত্রবধূ রাশেদা বেগম (৫৫), অপর পক্ষের মোহাম্মদ আলী (৬০) ও তাঁর ভাতিজা আবুল হাশেম (৫০)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কামতা মৌজার একটি জমির মালিকানা নিয়ে জোনাব আলী ও মোহাম্মদ আলীর পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। উভয় পক্ষই জমিটির মালিকানা দাবি করে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে।
সম্প্রতি ওই জমির পাশ দিয়ে স্থানীয়দের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত একটি রাস্তার প্রবেশমুখ বন্ধ করে টিনের ঘর নির্মাণ করে জোনাব আলীর পরিবারের সদস্যরা। এতে মোহাম্মদ আলীর পরিবারের লোকজন আপত্তি জানান। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি।
মঙ্গলবার সকালে মোহাম্মদ আলী, তাঁর ভাতিজা আবুল হাশেমসহ কয়েকজন গিয়ে ওই ঘরটি ভেঙে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের সাতজন আহত হন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জোনাব আলীর নাতি সুজন হোসাইন বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে মোহাম্মদ আলীর পরিবারের কাছ থেকে ৩৫ শতাংশ জমি কেনা হয়। এরপর থেকে তাঁরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি মোহাম্মদ আলীর পরিবার জমিটির মালিকানা দাবি করছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।
সুজনের অভিযোগ, তাঁদের মালিকানাধীন জমিতে ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটি ভেঙে দেওয়ার সময় তাঁর চাচা আব্দুল মোন্নাফ, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন, চাচি রাশেদা বেগম ও দেলোয়ার হোসেন আহত হন।
অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ আলী ও আবুল হাশেম বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাঁদের পরিবারের। জোনাব আলীর পরিবারের সদস্যরা জমিটি দখল করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ঘর নির্মাণ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তাঁরা ঘরটি সরিয়ে রাস্তা খুলতে গেলে জোনাব আলীর পরিবারের সদস্যরা তাঁদের ওপর হামলা করেন বলে তাঁরা দাবি করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, একটি ধানখেত ও পেয়ারা বাগানের মাঝ দিয়ে প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা পশ্চিম দিকে চলে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রায় ১০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছে। সম্প্রতি রাস্তার প্রবেশমুখে ঘর নির্মাণ করায় তাঁদের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। তিনি বলেন, আগে এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করতেন। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বিকল্প পথে অনেকটা ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে তাঁর চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে।এখানকার বাসিন্দা রাবেয়া খাতুনসহ আরও কয়েকজনও রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁদের চলাচলে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।
সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, কামতা গ্রামে রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশবার্তা/জেএ