বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের মাঝে বেকারত্ব আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশের প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত তরুণের মধ্যে ৩৬ জনই বেকার; অর্থাৎ শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার ৩৬ শতাংশ। আইএমএফের ‘ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক সংস্করণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এশিয়াজুড়ে তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার এমনিতেই বেশি, তবে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ক্ষেত্রে তা সর্বোচ্চ।
প্রতিবেদনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তির প্রভাব উল্লেখ করে বলা হয়, এআই প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারলেও পর্যাপ্ত দক্ষতা বৃদ্ধির আগেই এ প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার তরুণ কর্মীদের চাকরির বাজারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে এআই মডেলের কারণে প্রাথমিক পর্যায়ের কারিগরি পদের চাহিদা কমছে।
বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ বিশ্লেষণে চাকরির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর জানান, গত ২০ বছরে স্নাতক ডিগ্রিধারীর সংখ্যা বিপুল বাড়লেও চাকরির বাজার ও অর্থনৈতিক কাঠামো সেই অনুপাতে বদলায়নি। ২০১০ সালে শ্রমশক্তির মাত্র ৩.৯ শতাংশ স্নাতকধারী হলেও ২০২২ সালে তা বেড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছায়। প্রতিবছর শ্রমবাজারে আসা ২২-২৩ লাখ তরুণের মধ্যে সাড়ে ৭ লাখই স্নাতকধারী, অথচ তাদের নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট ২৬ লাখ ২৪ হাজার বেকারের মধ্যে ২০ লাখ ৩২ হাজারই তরুণ-তরুণী (১৫-২৯ বছর)। এই তরুণ বেকারদের প্রায় ২৯ শতাংশই স্নাতকধারী।
পরিসংখ্যান বলছে, উচ্চশিক্ষিত তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের ১৭ শতাংশের বেশি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বেকার থাকেন এবং ১৫ শতাংশের বেশি বেকার থাকেন ১ থেকে ২ বছর। অর্থাৎ, প্রতি তিনজনে একজন উচ্চশিক্ষিত তরুণকে এক বছরের বেশি সময় বেকা অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পরিসরে শ্রীলঙ্কায় শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার ৪৩ শতাংশ এবং ভারতে তা ৪০ শতাংশের বেশি। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে এই হার ২০ শতাংশের ওপরে।
আইএমএফ জানায়, শুধু চাকরির সংকট নয়, বাজার চাহিদা ও স্নাতকদের প্রাপ্ত দক্ষতার মধ্যে বড় ধরণের অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ‘দ্য গ্লোবাল জবস চ্যালেঞ্জ’ প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়, আগামী এক দশকে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে প্রায় ১২০ কোটি মানুষ শ্রমবাজারে ঢুকবে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যুবগোষ্ঠী। উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।
দেশবার্তা/একে