প্রতিদিনের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে যে দুধ অপরিহার্য, তার দাম এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। সম্প্রতি বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তরল দুধের দাম এক লাফে বেড়ে গেছে অনেকটা।
গত মাসে বাজারে মিল্কভিটার আধা লিটারের প্যাকেটের দাম ৫ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। আর এক লিটারের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ১১০ টাকা।
তবে সম্প্রতি লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে প্রায় সব প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম। ফার্ম ফ্রেশ, আড়ং এবং প্রাণ ডেইরির হাফ লিটার ৫৫ টাকা ও এক লিটার ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় ঠেকেছে। যাতে অসন্তোষ ভোক্তাদের।
একজন ভোক্তা বলেন, এটা হচ্ছে সুষম খাদ্য আমরা জন্মের পর থেকে শুনে আসছি। তো সবারই লাগে। এটা মনে হয় আসলে এতটা বাড়া ঠিক হয়নি।
আরেকজন ভোক্তা বললেন, দাম বাড়ার কারণে তিনি তার শিশুকে দুধ খাওয়ানোই বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আমার বাচ্চাকে নিয়মিতই দুধ খাওয়াতাম। দাম বাড়ার পর এটা আমি বন্ধ করে দিয়েছি।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তরল দুধের দাম বৃদ্ধির পর, কমেছে বিক্রিও। তারা বলছেন, সবকিছুই সিন্ডিকেট। সব দুধের দাম বেড়েছে। লিটারে ১০ টাকা করে।
প্যাকেজিং, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি লিটারে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। এ কারণে দাম কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানায় দুগ্ধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
মিল্কভিটার চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিল বলেন, প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়ালের দাম বেড়েছে অনেক। গ্যাস ও তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। সবকিছু নিয়েই এই প্রতিষ্ঠান লসে চলে যাচ্ছিল। তো বাধ্য হয়েই বাড়াতে হয়েছে।
এছাড়া কৃষক পর্যায়ে দুধের ক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে, বলে জানায় মিল্কভিটা। তবে, লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজারে দুধের এমন মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানোকে আরও কঠিন করে তুলছে, তাই দুধের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার তাগিদ ভোক্তাদের। সূত্র: স্টার নিউজ
দেশবার্তা/একে