নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বিদ্যালয়ের স্টাফ সভা চলাকালে সহকর্মী শিক্ষিকাকে থাপ্পড় মারার অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ খুরশেদ আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পৃথক দুটি আদেশে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আজমের কার্যালয়ের দুটি স্মারকের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
উপজেলা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শুনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্টাফ সভা চলাকালে প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে সহকারী শিক্ষক খুরশেদ আলমের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে এক সহকারী শিক্ষিকাকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শীতেষ চন্দ্র পালের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
এর মধ্যে গত ৬ অক্টোবর ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভিডিওতে শিক্ষিকাকে উদ্দেশ করে ‘কথা কস ক্যারে’ বলার পর থাপ্পড় মারার দৃশ্য রয়েছে বলে গত ৬ অক্টোবর সমকালের অনলাইনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন খান বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে।
বিভাগীয় মামলা রুজু ও সাময়িক বরখাস্তের মধ্য দিয়ে ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বিভাগীয় কার্যক্রমের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মামলার নিষ্পত্তি সম্পর্কে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
দেশবার্তা/এমআর