রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪০০ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ৫২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩৬০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এসব ঘটনায় ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে চারটি নিয়মিত মামলা ও ১৬টি মোবাইল কোর্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ও রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের নির্দেশনায় এবং ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সবুজবাগ, ডেমরা, মতিঝিল ও কোতোয়ালি সার্কেলের চারটি দল অভিযানে অংশ নেয়।
বাসে তল্লাশি হেরোইন উদ্ধার :
ডিএনসির পরিদর্শক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে সবুজবাগ থানাধীন অতীশ দীপঙ্কর রোডের বৌদ্ধমন্দিরের পশ্চিম পাশে একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জগামী আরপি রোকেয়া স্পেশাল বাসের দুই যাত্রী জেনারুল ইসলাম (৩৫) ও মনিরুল ইসলাম (৫৫)-এর কাছ থেকে আটটি পলিপ্যাকেটে রাখা ৪০০ গ্রাম হেরোইন এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ডিএনসির দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে হেরোইন বিক্রি করে আসছিলেন। এ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া যাত্রাবাড়ীতে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার : পরিদর্শক মো. ফজলুল হক খানের নেতৃত্বে ডিএনসির আরেকটি দল যাত্রাবাড়ী থানাধীন কোনাপাড়া কাঠেরপুলের খলিল মাস্টার মসজিদ রোডে অভিযান চালিয়ে শামীম খান ওরফে খোকন (৪৪) এবং শাহবুদ্দিন (৫৫) নামের দুজনকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
একই দলের অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন বিশ্বাসের নেতৃত্বে পল্টন থানার বিভিন্ন এলাকায় আরও আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ৮০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড দেন।
ফকিরাপুর ও দয়াগঞ্জে অভিযান :
পরিদর্শক মুহাম্মদ সাজেদুল আলমের নেতৃত্বে মতিঝিল থানাধীন ফকিরাপুর এবং গেন্ডারিয়া থানাধীন দয়াগঞ্জ মোড়ের উত্তর পাশে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নাইম (৩২) ও আলী হোসেন (৪৮) নামের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন বিশ্বাসের নেতৃত্বে কোতোয়ালি, বংশাল ও পল্টন থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮০ গ্রাম গাঁজাসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
ডিএনসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদক নির্মূলে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
দেশবার্তা/আরএইচ