সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশিকে নিয়ে ফেসবুকে ছড়াচ্ছে মনগড়া গল্প

দেশবার্তা প্রতিবেদক

জাতীয়

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে—এমন দাবি করে ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে

2026-10-20T15:48:57+06:00
2026-10-20T16:32:38+06:00
বুধবার ● ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
জাতীয়
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশিকে নিয়ে ফেসবুকে ছড়াচ্ছে মনগড়া গল্প
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৮ পিএম  আপডেট: ২০.১০.২০২৬ ৪:৩২ পিএম
⏲
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে—এমন দাবি করে ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি তাঁদের সৌদি আরবে যাওয়া, পরিচয় ও মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা নিয়ে নানা গল্পও প্রচার করা হচ্ছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে মরদেহ দেশে ফেরার দাবির সত্যতা মেলেনি। একই সঙ্গে তাঁদের চার মাস আগে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে যাওয়ার যে গল্প ছড়ানো হচ্ছে, সেটিও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানটি।

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আহমেদ দিদার নামের এক ব্যক্তির ধারণ করা ভিডিওকে কেন্দ্র করে মরদেহ দেশে ফেরার গুজব ছড়ায়। তিনি ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করে দাবি করেন, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। পরে ফ্যাক্টওয়াচের সঙ্গে কথা বলে তিনি স্বীকার করেন, লোকমুখে শুনে যাচাই না করেই ভুল তথ্য পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওতে দেখানো মরদেহ কার, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

আহমেদ দিদার প্রথমে ১৭ অক্টোবর ভিডিওটি পোস্ট করে লেখেন, সৌদি আরবে মসজিদে অনৈতিক কাজের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। পরদিন একই ভিডিও পোস্ট করে তিনি আবারও তাঁদের নিয়ে মন্তব্য করেন। ফ্যাক্টওয়াচের সঙ্গে যোগাযোগের পর সোমবার সকালে তিনি ক্ষমা চেয়ে পোস্ট দেন। সেখানে জানান, ভিডিওটির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশন ভুল ছিল এবং সঠিক তথ্য না জেনে পোস্ট করায় তিনি দুঃখিত। পরে আগের পোস্টগুলোর ক্যাপশনও পরিবর্তন করেন।

মরদেহ দেশে ফেরার তথ্য মেলেনি

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির একজন নজরুল ইসলাম। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসিন্দা। সৌদি আরবে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তাঁর বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছেলের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল, তা তিনি জানেন না। তিনি ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।

ফ্যাক্টওয়াচ জানিয়েছে, নিজস্ব সূত্রেও নজরুল ইসলামের পরিচয় এবং তাঁর মরদেহ দেশে না ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনার তথ্য পাওয়া যায়নি।

বরং গত রোববার (১৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করে মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনেও এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে নিয়ে মনগড়া গল্প

ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার নবদম্পতি ছিলেন। তাঁরা চার মাস আগে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। মক্কার একটি মসজিদে নজরুল সুইটির কপালে চুমু দিলে সৌদি পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। পরে চার মাস ধরে মামলার শুনানি শেষে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে এই গল্পের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। সেখানে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় মক্কার একটি মসজিদে সুইটি আক্তারের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তিন বছর তিন মাস কারাবন্দি থাকার পর গত বুধবার তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

নজরুলের মায়ের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাগারে থাকাকালে প্রতি রোববার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেন নজরুল। তবে গত বুধবার তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমের খবর থেকে জানতে পারেন। পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া নজরুলের এক আত্মীয় ফ্যাক্টওয়াচকে জানিয়েছেন, তিনি অবিবাহিত ছিলেন।

এসব তথ্য অনুযায়ী, চার মাস আগে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে যাওয়া এবং নবদম্পতি হওয়ার প্রচারিত গল্পের সঙ্গে নজরুলের বাস্তব জীবনের তথ্যের মিল নেই।

অন্য ভিডিওটি লক্ষ্মীপুরের দুই প্রবাসীর

একই দাবিতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কফিন ভ্যান থেকে নামানো হচ্ছে এবং সেটিকে ঘিরে উৎসুক মানুষের ভিড়। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরার নয়; এটি লক্ষ্মীপুরের একটি ঘটনার।

ভিডিওটির কিছু দৃশ্যের সঙ্গে মিলে যায় এমন ফুটেজ গত ৩১ জুলাই শরীফ উল্লাহ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়েছিল। পরে প্রথম আলোর ২৮ জুলাইয়ের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সৌদি আরবের দাম্মামে লক্ষ্মীপুরের দুই ভাই ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। ফ্যাক্টওয়াচের যাচাই অনুযায়ী, ভাইরাল ভিডিওটি ওই ঘটনার।

প্রথম আলোর আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে বিদেশ থেকে দেশে ৪ হাজার ৬০টি মরদেহ এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে সৌদি আরবে।

সব মিলিয়ে ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরার দাবি এবং তাঁদের সৌদি আরবে যাওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে ছড়ানো গল্পের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি দাবি দুটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

দেশবার্তা/এমআর


সর্বশেষ সংবাদ 

যারা একাত্তরে ধোঁকা দিয়েছিল, তারা চব্বিশেও দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যুর গুজব উড়িয়ে দিয়ে প্রকাশ্যে কিম জং উন
ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প বাতিল, হবে ছয় লেনের সড়ক
বিতর্কিত জলসীমায় মার্কিন রণতরী,নজরদারিতে চীনা নৌবাহিনী
রাজশাহীতে জনসভার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী, অপেক্ষমাণ মানুষের উচ্ছ্বাস

সর্বাধিক পঠিত 

ঢাবি মাস্টারদা সূর্যসেন হলের অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন
ডেঙ্গু রোগীর চাপে বিপর্যস্ত সরকারি হাসপাতাল, প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন
পেশাজীবী সংগঠনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ঠিক না : সভাপতি প্রার্থী সজল
বরুড়ায় মাছের ঘেরে বিলীন হচ্ছে সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
রাজধানীতে ডিএনসির অভিযান: হেরোইন-ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেফতার ২২
জাতীয়- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]
Advertisement