সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে এলাকার হাজার হাজার পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
জানা গেছে, কাকবাসিয়া খেয়াঘাট সংলগ্ন পাউবো’র বাঁধে সম্প্রতি মাটি ও বালিভর্তি বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলে সংস্কার কাজ করা হয়। এতে এলাকাবাসী কিছুটা স্বস্তি পেলেও সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কয়েকদিন আগে বাঁধে ফাটল দেখা দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এরই মধ্যে রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে খোলপেটুয়া নদীর প্রবল স্রোতের চাপে সবুর গাজীর বাড়ির কাছে বাঁধের ফাটল বড় ধরনের ভাঙনে রূপ নেয়। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ১০০ হাত বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে এবং বাঁধটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁধের ডাম্পিং করা অংশের কাছাকাছি পর্যন্ত ভাঙন পৌঁছে গেছে। বাঁধের প্রায় ৫০ ফুট উত্তরে এবং ১০০ ফুট দক্ষিণে আরও দুটি স্থানে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
ভাঙনের খবর পেয়ে আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল কুদ্দুছসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল কুদ্দুছ জানান, “বাঁধটির ভাঙন অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রতিনিয়ত বাঁধের অংশ নদীতে ধসে পড়ছে। গত বছর ঈদের দিন নামাজ চলাকালে বাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এতে আনুলিয়ার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে এবং ঘরবাড়ি, ফসল ও মৎস্যঘের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আজ (রোববার) রাতের জোয়ারের আগে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে বাঁধ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। দ্রুত জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডাম্পিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
এলাকাবাসীও দ্রুত সংস্কার কাজ শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ