জাপানে রেকর্ড হারে জন্মহার হ্রাস পাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় নারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে নিজের সপ্তম সন্তানের জন্ম দিয়েছেন জনপ্রিয় লেখিকা ও সাবেক রাজনীতিবিদ কোতোয়ে হাশিমোতো। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে নারীদের সন্তান জন্মদানের তাগিদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা তার একটি পোস্ট বিশ্বজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে সপ্তম সন্তানের জন্ম দেন কোতোয়ে হাশিমোতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সদ্যজাত শিশুর একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, আমি আমার সপ্তম সন্তানের জন্ম দিয়েছি! আপনাদের ভালোবাসা ও সহায়তার জন্য ধন্যবাদ। চিকিৎসক, মিডওয়াইফ ও নার্সদের ডেডিকেশনের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা।
অপর একটি পোস্টে জাপানি নারীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, আমি বিশ্বাস করি, জাপানি নারীদের জন্য সন্তান নেয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। আমাদের জাতির উত্থান ও পতন নারীদের সক্রিয় ভূমিকার ওপরই নির্ভর করছে।
পরবর্তী সময়ে গত ২ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তিনি জানান, শিশুটির জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং মা ও নবজাতক উভয়ই সুস্থ রয়েছে।
জাপানের নিম্নমুখী জন্মহার নিয়ে এক্সে নিয়মিত নীতিগত প্রস্তাব দেওয়া কোতোয়ে হাশিমোতো সম্প্রতি এক বিতর্কিত পোস্টে উল্লেখ করেন, জন্মহার বাড়াতে ডিম্বস্ফোটন পরীক্ষার পেছনে সরকারি অর্থ খরচের চেয়ে প্লাস্টিক সার্জারি বা স্তন পুনর্গঠনে স্বাস্থ্য বীমা চালু করলে তরুণ প্রজন্মকে সন্তান গ্রহণে আকর্ষণে তা হয়তো বেশি কার্যকর হতো।
জাপানে জন্মহার যখন রেকর্ড পরিমাণে হ্রাস পাচ্ছে, ঠিক তখনই হাশিমোতোর এই ঘটনা সামনে এলো। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে মাত্র ৬ লাখ ৭১ হাজারের কিছু বেশি শিশু জন্মগ্রহণ করেছে, যা তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার কম। এটি টানা ১০ম বছরের মতো জন্মহার হ্রাসের ঘটনা এবং ১৮৯৯ সালে অফিশিয়াল রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন।
বর্তমানে জাপানে নারীদের প্রজনন হার (টিএফআর) কমে মাত্র ১.১৪-এ দাঁড়িয়েছে। জন্মহারের এই নিম্নগতি দেশটির অর্থনীতি ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশবার্তা/একে