অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতাকে নিয়তি হিসাবে মেনে নিয়েছে চট্টগ্রামবাসী। বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি হবে আর পুরো শহর পানির নীচে তলিয়ে যাবে। টানা বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধ হয়ে পড়লো চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা। এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে একই চিত্র ফিরে আসায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক ও অলিগলি। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগে পড়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয় জানিয়েছে,গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা অতি ভারী বর্ষণ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূঁইয়া জানান, রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা অতি ভারী বর্ষণ হিসেবে বিবেচিত।
নগরীর কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, ফরিদারপাড়া, চকবাজার, আগ্রাবাদ, উত্তর কাট্টলী, দক্ষিণ নালাপাড়া ও জামালখানসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। গত জুলাইয়েও টানা চার থেকে পাঁচ দিন জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে পড়েছিলেন নগরবাসী। এর আগে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে প্রবর্তক মোড়েও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় সোমবার সকালে প্রায় কোমরসমান পানি দেখা যায়। অনেক ভবনের নিচতলা ও গাড়ি রাখার জায়গায় পানি ঢুকে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মোহাম্মদ বলেন, ভবনের নিচতলায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। বাইরের সড়কে কোমরসমান পানি থাকায় এই পানি পেরিয়ে কর্মস্থলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। জুলাই মাসেই আমরা টানা তিন দিন ঠিক একই রকম দুঃস্বপ্নের মতো পরিস্থিতি পার করেছি। প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগ ফিরে ফিরে আসে। এর কোনো স্থায়ী সমাধান দেখা যাচ্ছে না।
উড়ালসড়কেও জমেছে পানি। আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারের ওপর পানি জমে থাকতে দেখা গেছে, যা যানবাহনের গতি কমিয়ে দিয়েছে।
চলমান গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাস্তায় কম থাকায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এতে অফিসগামী যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় আটকা পড়েছেন।
চট্টগ্রাম নগরীরর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ