নীলফামারীর জলঢাকা পৌর এলাকার মুদি পাড়ায় প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো একটি কালী মন্দিরের প্রবেশগেট ও পূর্বদেয়াল ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। মন্দিরসংলগ্ন রাস্তা সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের কাজকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন মন্দিরসংশ্লিষ্টরা। ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী প্রশান্ত কর্মকার জানান, পৌরসভার অভ্যন্তরে থাকা কাঁচা রাস্তাটি পাকা করার জন্য টেন্ডার শেষে বর্তমানে কাজ চলছে। রাস্তার নির্ধারিত প্রস্থ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় মন্দিরের প্রবেশগেট ও পূর্বদেয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর দাবি, কোনো উন্নয়নকাজের বিরোধিতা তাঁরা করছেন না; তবে মন্দিরের মতো পুরোনো ধর্মীয় স্থাপনার অংশ ভাঙার আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল।
সরেজমিনে মন্দিরের পূর্বদিকের দেয়াল ও প্রবেশগেট ভাঙা অবস্থায় দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরটি এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ঘটনার খবর পেয়ে জলঢাকার সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এমপি বলেন, তদন্তে যারা জড়িত বলে শনাক্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় প্রশান্ত কর্মকার জলঢাকা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ও প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে মন্দির ভাঙার প্রকৃত কারণ, জড়িতদের পরিচয় এবং রাস্তা নির্মাণের সঙ্গে এর সম্পর্ক স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মন্দিরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রতিনিধি/আরএইচ