‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের পরিচয় মাছে-ভাতে বাঙালি। প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশ।” তিনি বলেন, পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং খাল-বিলের উন্নয়নের মাধ্যমে সরকার দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। খরা, বন্যা, অতিবৃষ্টিসহ নানা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও দেশে বিপুল পরিমাণ ফল ও ফসল উৎপাদিত হয়।
তিনি আরও বলেন, “দেশের কৃষক, কামার, কুমার, তাঁতি, জেলেসহ আপামর জনগণ সমন্বিতভাবে কাজ করলে আমরা সব ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারব। বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি কমিয়ে নিজেদের উৎপাদন বাড়াতে হবে। বিশেষ করে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে তা বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।”
মন্ত্রী বলেন, “স্বপ্ন, আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও উন্নত আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”
খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মু. বিল্লাল হোসেন খান, মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান রাসেল। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী, মাছ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, মৎস্যখাদ্য উৎপাদক এবং ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রধান অতিথি দুইজন সফল মৎস্যচাষিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।
এর আগে মন্ত্রীর নেতৃত্বে মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে মন্ত্রী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ