আইন অমান্য করে জব্দ করা সামুদ্রিক মাছ ধ্বংসের অভিযোগে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন বরগুনার পাথরঘাটা আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ার হোসেন।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও বিপন্ন মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অভিযান চালিয়ে কয়েক প্রজাতির ৬৯০ কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করে মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করেন। পরে বিষয়টি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে আদালতের নজরে আসে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৬(২), ৩৬(৪) ও ৪৭(২), সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩-এর বিধি ২৬(৩) এবং ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১০৩, ৫১৬ক ও ৫২৫ লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট এ এইচ এন সারতাজ বিন সোহরাবের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। আদেশ পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাকে আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
জব্দ করা মাছের মধ্যে ছিল ৪৪০ কেজি শাপলাপাতা মাছ এবং ২৫০ কেজি গিটার মাছ। এসব মাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বিএফডিসি মৎস্যঘাটের একটি আড়তে সামুদ্রিক মাছ মজুত রেখে বিক্রির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
একই সূত্রে আরও জানানো হয়, পাথরঘাটা উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জব্দ করা মাছগুলো মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। তবে পাথরঘাটা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বিষয়টি জানেন না বলে আদালতকে অবহিত করেছেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ