হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স ও ডেগ খুলে ৭২ লাখ ৮৫ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গণনা শেষে এ হিসাব পাওয়া যায়।
এ নিয়ে চলতি বছরে তৃতীয় দফায় মাজারের দানবাক্স খোলা হলো। এর আগে ২২ জুন ও ১১ জুলাই দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে টাকা গণনা করা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১০টার দিকে দানবাক্স ও দানের ডেগগুলোর সিলগালা খোলার কার্যক্রম শুরু হয়। তিনটি ডেগ ও তিনটি বড় দানবাক্স খোলার পর সকাল সাড়ে ১০টায় টাকা গণনা শুরু হয়। এতে অন্তত ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন।
এর আগে চলতি বছরের ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তাঁর নির্দেশে ১৮ জুন মাজারে তিনটি নতুন দানবাক্স বসানো, একটি ডেগে সিলগালা করা এবং নতুন দানবাক্স স্থাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপড়েন দেখা দেয়।
বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে ‘রুটিন বদলি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
নতুন দানবাক্স স্থাপনের চার দিন পর, ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স খুলে গণনা করা হয়। এতে নগদ ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। প্রথম গণনার ১৮ দিন পর, ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হলে নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। সে সময় একাধিক দেশের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় দফা গণনার ৩৪ দিন পর এবার তৃতীয়বারের মতো দানবাক্স খুলে ৭২ লাখ ৮৫ হাজার ৬৭২ টাকা গণনা করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ