ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৬.৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভোরে সংঘটিত প্রথম ভূমিকম্পেই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বহু মানুষ ভেঙে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজ (শনিবার) দিনের প্রথম ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে তেনেগ্গারা প্রদেশের পূর্ব নুসার ফ্লোরেস দ্বীপে। পরবর্তীতে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের পেমাতাংসিয়ান্তার শহরের কাছে ১৬৩ কিলোমিটার গভীরে ৬.৪ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানায়, দ্বিতীয় ভূকম্পনটি কেঁপে উঠলেও এতে নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রথম ভূকম্পনের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, একের পর এক বসতবাড়ি ও ভবন ধসে পড়ছে এবং মানুষ আতঙ্কে ছোটাছুটি করছে।
পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের সিক্কা শহরের বাসিন্দা ইয়োহান্না এমবু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিকে জানান, ভূমিকম্পের প্রচণ্ডতায় চোখের সামনেই বন্দর এলাকার একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে এবং বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যায়।
এক সংবাদ সম্মেলনে প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা জানান, ভোরে ভূকম্পনের সময় ধসে পড়া অবকাঠামোর নিচে চাপা পড়ে ঘুমের মধ্যেই অনেকের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মাংগারাই প্রদেশকে।
প্রাথমিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ দুর্যোগে অন্তত ৫৪টি বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৩টি উপাসনালয়, ৬টি সরকারি কার্যালয়, ১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১টি গুদাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল।
দেশবার্তা/একে