থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে প্রধান পাইলটের শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হওয়ার খবর সামনে এসেছে।
তবে শুধু পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি পাওয়া মানেই পাইলট বিমান চালানোর সময় নেশাগ্রস্ত ছিলেন বা এ কারণেই বিমানটি নিচে নেমে গিয়েছিল- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী বিমানটি মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেলে ১৩ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য আহত হন। পরে বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।
ঘটনার পর দুই পাইলটেরই মানসিক প্রভাব ফেলে এমন মাদক গ্রহণের পরীক্ষা করা হয়। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধান পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষার ফল এমন আসে, যার কারণে আরও নিশ্চিত পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই পাইলটকেই বিমান পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, পরবর্তী পরীক্ষায় প্রধান পাইলটের শরীরে গাঁজার উপাদান পাওয়া গেছে। তবে এয়ার ইন্ডিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল নিশ্চিত করেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হওয়া মানেই পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে বা বিমান চালানোর সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত ছিলেন- এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
গবেষণায় দেখা গেছে, গাঁজা গ্রহণের পর কিছু সময়ের জন্য মনোযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, শরীরের সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ এবং জটিল কাজ করার দক্ষতা কমে যেতে পারে। পুরোনো কয়েকটি গবেষণায় গাঁজা গ্রহণের পর পাইলটদের উড্ডয়ন অনুশীলনে উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ, দিক ঠিক রাখা এবং অবতরণের ক্ষেত্রে ভুল বেড়ে যাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে এর প্রভাব ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে।
তবে শরীরে গাঁজার উপাদান কতদিন শনাক্ত হবে, তা নির্ভর করে গ্রহণের পরিমাণ, গ্রহণের পদ্ধতি, ব্যবহারের ঘনত্ব এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর। ফলে পরীক্ষার ফল দেখে ঠিক কখন গাঁজা গ্রহণ করা হয়েছিল বা ঘটনার সময় পাইলট এর প্রভাবে ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করা কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বর্তমান তদন্তে তিনটি বিষয়ের উত্তর খোঁজা হচ্ছে- পাইলট গাঁজা গ্রহণ করেছিলেন কি না, বিমান চালানোর সময় তিনি এর প্রভাবে ছিলেন কি না এবং সেই প্রভাব বিমানটির আকস্মিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় কোনো ভূমিকা রেখেছিল কি না।
বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারীরা কারিগরি ত্রুটি, পরিচালনাগত বিষয়, শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং অন্যান্য মানবিক কারণসহ সব দিক খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পাইলটের পরীক্ষার ফলের সঙ্গে বিমানটির আকস্মিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া তাদের সব পাইলটের মাদক পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্টসংখ্যক পাইলটের ওপর আকস্মিক পরীক্ষা করা হলেও এবার তা আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশবার্তা/একে