সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার ও লেনদেনে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতার ক্রমোন্নতি হওয়ায় ফল আমদানির ক্ষেত্রে শতভাগ নগদ মার্জিনের প্রয়োজনীয়তা কমেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ, আমদানি সহজীকরণ এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
ফল আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে গ্রাহকের সঙ্গে ব্যাংকের সম্পর্কের ভিত্তিতে ফল আমদানি এলসির নগদ মার্জিনের হার নির্ধারণ করা যাবে।
আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও এতে জানানো হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জারি করা সার্কুলার লেটারের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে দেশের মুদ্রা ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অধিকতর সুসংহত রাখার লক্ষ্যে কিছু বিলাসজাতীয় পণ্য এবং অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত আমদানি বিকল্প পণ্যের এলসি খোলার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। ওই তালিকায় ফলও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার ও লেনদেনে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতার ক্রমোন্নতি হওয়ায় ফল আমদানির ক্ষেত্রে শতভাগ নগদ মার্জিনের প্রয়োজনীয়তা কমেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ, আমদানি সহজীকরণ এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সার্কুলার লেটার এবং পরবর্তী সময়ে জারি করা সংশ্লিষ্ট অন্য নির্দেশনার বাকি বিষয়গুলো অপরিবর্তিত থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে ফল আমদানিকারকদের এলসি খোলার সময় নগদ অর্থের প্রয়োজনীয়তা কমবে। এতে আমদানি অর্থায়ন সহজ হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ফলের সরবরাহ ও প্রতিযোগিতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে শিশু, রোগী, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের খাদ্যতালিকায় ফলের পুষ্টিগত গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
দেশবার্তা/এমআর