চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্রেরিত এই রেমিট্যান্সের ৮৬.২৭ শতাংশ বা ২৪৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এসেছে মাত্র ১০টি দেশ থেকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরব রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটি থেকে এককভাবে সর্বোচ্চ ৫৮ কোটি ৭২ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার এসেছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এছাড়া ২৭ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার নিয়ে রেমিট্যান্স পাওয়ার দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৫.৫৫ কোটি ডলার, ইতালি থেকে ২০.৩১ কোটি ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ২০.১৩ কোটি ডলার, কুয়েত থেকে ১৪.৮৭ কোটি ডলার, ওমান থেকে ১৪.১৯ কোটি ডলার, সিঙ্গাপুর থেকে ১৩.৬৯ কোটি ডলার এবং কাতার থেকে ১২.১৫ কোটি ডলার এসেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও দূরপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকেও প্রবাসী আয়ের ভালো সাড়া মিলছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালি থেকে ২০.৩১ কোটি ডলার ছাড়া ফ্রান্স থেকে ৪.০৬ কোটি, পর্তুগাল থেকে ১.৮১ কোটি, গ্রিস থেকে ১.৭৪ কোটি, স্পেন থেকে ১.২২ কোটি এবং জার্মানি থেকে ১.১৮ কোটি মার্কিন ডলার এসেছে।
অন্যান্য দেশের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৩.৬৫ কোটি, জর্দান থেকে ৩.৫৩ কোটি, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২.৭১ কোটি, অস্ট্রেলিয়া থেকে ২.১৩ কোটি এবং কানাডা থেকে ১.৭০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। শীর্ষ ১০টি দেশ বাদে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে মোট এসেছে ৩৯ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
ব্যাংক খাতের কর্মকর্তারা জানান, বৈধ বা ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রণোদনা বাড়ানো এবং লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ করার ফলে অর্থবছরের শুরুতেই এই ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী গতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সার্বিক অর্থনীতিকে শক্ত ভিত দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা।
দেশবার্তা/একে