সারাদেশে তীব্র আকার ধারণ করেছে গ্যাস সংকট। চাহিদার তুলনায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। আবাসন খাতে অধিকাংশ এলাকায় গ্যাসের চাপ একেবারেই থাকছে না, কোথাওবা দিনের বড় অংশজুড়ে চুলা পুরোপুরি বন্ধ থাকছে। রান্নাঘরের এই সংকটের পাশাপাশি প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন খাতেও।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক ভোগান্তির এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় অনেকে বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন। যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা ইমরুল হোসেন তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গ্যাস থাকে না তাই বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করি। এতে বাড়তি খরচ দিতে হয়। গ্যাসের বিলও দিতে হচ্ছে, আবার সিলিন্ডারের খরচও আছে। অভাবের সংসারে ডাবল খরচ বহন করা আমাদের জন্য কষ্টকর।’
একই দুর্ভোগের কথা জানান মিরপুরের বাসিন্দা আসমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘গ্যাস পাচ্ছি না। এভাবে রান্না করা যায় না। চুলায় রান্না বসিয়ে বসে থাকতে হয়। গ্যাসের চাপ এত কম যে রান্না করতে ঘণ্টা পার হয়ে যায়।’
এদিকে গ্যাসের প্রেসার বা চাপ কম থাকায় শহরের সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো গ্যাস পাচ্ছেন না চালকেরা।
অনোয়ার নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালক জানান, ‘গ্যাসের চাপ থাকে না। গ্যাস নিতে সিরিয়ালেই ২-৩ ঘণ্টা চলে যায়। এতে আমাদের আয় কমেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অবস্থা আরও খারাপ।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলমান এই তীব্র সংকটের মূলে রয়েছে কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি সমস্যা এবং সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়া। দেশে এলএনজি সরবরাহে নিয়োজিত দুটি টার্মিনালের একটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আগেই সরবরাহ কমে গিয়েছিল। এর ওপর বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্বিতীয় টার্মিনাল থেকেও স্বাভাবিক রিগ্যাসিফিকেশন ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতি চরম আকার ধারণ করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্পখাতে; প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় অনেক শিল্পকারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাতে বাধ্য হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশবার্তা/একে