জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণকেন্দ্র বটতলা এলাকায় দীর্ঘদিনের মেয়েদের ওয়াশরুম সংকটের এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পর জাকসুর নির্বাচনী ইশতেহারে বটতলায় ওয়াশরুম নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আব্দুর রব ৬ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করলেও স্থান নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে।
সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলমের উপস্থিতিতে বটতলার একটি পরিত্যক্ত স্থানে ওয়াশরুম নির্মাণের নতুন স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থান পরিবর্তনের কারণ
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে ওয়াশরুম নির্মাণের জন্য যে স্থানটি নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেখানে আপত্তি জানায় মওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি ছিল, ওই স্থানে ওয়াশরুম নির্মিত হলে হলের যাতায়াতে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকায় দোকান পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও বিরোধিতার অন্যতম কারণ ছিল।
পরে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের আওতাধীন নিচু বট এলাকায় নতুন স্থান নির্ধারণ করা হলেও হল প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সেখানে নতুন করে আপত্তি ওঠে। বটতলার দোকানদারদের দাবি, খাবারের দোকানের সামনে ওয়াশরুম হলে দুর্গন্ধের কারণে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণে নির্মাণকাজ স্থগিতের দাবি জানানো হয়।
অন্যদিকে, কামাল উদ্দিন হলের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, বটতলায় স্বতন্ত্র ওয়াশরুম না থাকায় বহিরাগত ও অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা তাদের হলের টয়লেট ব্যবহার করেন। এতে আবাসিক শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
নতুন স্থান নির্ধারণ
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রথম স্থান বাতিল হওয়ার পর দ্বিতীয় স্থানটি তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), দুই হলের প্রভোস্ট, প্রকৌশলী ও জাকসু প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাঝ বট এলাকার পরিত্যক্ত পুরোনো ওয়াশরুমসংলগ্ন স্থানটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, নতুন স্থানটি কিছুটা নির্জন হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মূল সড়ক থেকে ইটের রাস্তা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং প্রয়োজন হলে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের চলাচলের অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই প্রথম স্থানটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
জাকসুর বক্তব্য
ওয়াশরুম নির্মাণে বিলম্বের জন্য অনেকেই জাকসুকে দায়ী করলেও জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহার বলেন, প্রকল্পটি অনেক আগেই প্রশাসনের মাধ্যমে অনুমোদন পেয়েছে এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রকল্প অফিসের। তবে বিভিন্ন হলের আপত্তির কারণে একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, সাবেক ট্রেজারারের সময় ৬ লাখ টাকার প্রাথমিক বাজেট অনুমোদন হয়েছিল। নতুন পরিকল্পনায় পরিত্যক্ত জায়গায় কর্মচারীদের জন্য একটি অংশ রেখে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক দুটি ওয়াশরুম নির্মাণ করা হবে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
নতুন স্থানটি ঝোপঝাড়ে ঘেরা ও তুলনামূলক নির্জন হওয়ায় বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেখানে পর্যাপ্ত আলো, নতুন রাস্তা এবং নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছে, তবে এসব ব্যবস্থা কত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে এবং শিক্ষার্থীরা কতটা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ওয়াশরুম ব্যবহার করতে পারবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
প্রতিনিধি/আরএইচ