চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ক্যাম্পাসের সব পুকুরকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব পুকুরে নামা, সাঁতার কাটা বা অন্য কোনোভাবে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ নির্দেশ অমান্য করে কেউ পুকুরে প্রবেশ করলে তা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চুয়েট সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলসংলগ্ন পুকুরে ডুবে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহার মৃত্যু হয়। এর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে গত ১২ আগস্ট একই পুকুরে ডুবে প্রাণ হারান আরও দুই শিক্ষার্থী। তারা হলেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চমক দত্ত এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত দেব।
এদিকে, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল কক্ষে আয়োজিত সভায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সভা শুরুর আগে পুকুরে ডুবে নিহত তিন শিক্ষার্থীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিভিন্ন সেবার মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রতিনিধি/আরএইচ