গাজীপুর সাফারি পার্কে চার দিনের ব্যবধানে দুটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হাতির আক্রমণে গুরুতর আহত ১০ বছর বয়সী ‘রাজু বাহাদুর’ দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যায়। অপর একটি হাতির মৃত্যু হয়েছে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ মে হাতিশালায় শেকলে বাঁধা অবস্থায় থাকা রাজু বাহাদুরের ওপর চার বছর বয়সী হাতি ‘জয়িতা’ আক্রমণ করে। এতে রাজু বাহাদুরের একটি পা ভেঙে যায়। পরে ক্রেনের সাহায্যে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয়। এক্স-রে পরীক্ষায় পা ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
রাজু বাহাদুরের চিকিৎসায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একাধিক মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৪ জুন থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ বন্যপ্রাণী চিকিৎসকদের একটি দল পার্কে আসে। এছাড়া শ্রীলঙ্কার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও গত ৭ আগস্ট সকালে হাতিশালায় রাজু বাহাদুর মারা যায়।
এর আগে, ৬ আগস্ট রাতে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত আরও একটি হাতির মৃত্যু হয়। ফলে চার দিনের ব্যবধানে পার্কে দুটি হাতির মৃত্যু হলো।
দুই হাতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তাদের দেহ থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে হাতি দুটির মরদেহ পার্কের ভেতরেই মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “রাজু বাহাদুরকে সুস্থ করে তুলতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দীর্ঘদিন চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সব ধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”
পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বর্তমানে গাজীপুর সাফারি পার্কে মোট আটটি হাতি রয়েছে। পরপর দুটি হাতির মৃত্যুর ঘটনায় পার্কের প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ল্যাব পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিনিধি/আরএইচ