সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশ। সমস্যা সমাধানের নানান আশ্বাস বাণী শুনে আসছি খবরে কাগজে। পড়তে ভালই লাগে মনটা বেশ প্রশমিত হয়তো এবার একটা সুরাহা হতে যাচ্ছে। কিন্তু" দিন যায় কথা রয়।" সরকারের কত পালা বদল হলো।
সমস্যা -১
যে বুড়ি গঙ্গার টলমল সুন্দর জলরাশি ছিল,সেটা তো হয়ে গেছে আলকাতরার মত কালো দুর্গন্ধ। নদীর জায়গা ও আস্তে আস্তে দখলদারদের দখলে চলে গেছে। প্রায় সময় শোনা যায়, সরকার বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং এরপর শুরু হয় ভাঙচুর। আবার কোন যাদু বলে ঐ একই জায়গায় আবার নতুন করে দালান কোঠা তৈয়ারী হয়ে যায়।
বহুকাল ধরে শুনে আসছি সরকার নানান বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, পুনরায় বুড়িগঙ্গাকে আদি রূপে ফিরিয়ে আনতে কিন্তু "দিন যায় কথা রয়। "
সমস্যা -২
রাস্তার ট্রাফিক জ্যাম তথৈবচ। দেশে তো কত কিছুর আধুনিকরণ হলো, তবে ট্রাফিক সিস্টেম কেন হাত উঠিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে। পুলিশ হাত উঠিয়ে আছে তো আছেই, সময়ের কোন বালাই নেই, গাড়ি যাচ্ছে তো যাচ্ছেই, আরেক দিকে গাড়ির বিরাট লাইন হয়ে যাচ্ছে। এটা কোন আদি যুগের সিস্টেম? সময়ের যে কত অপচয় হচ্ছে! রাস্তায় কি যে বিশৃঙ্খল অবস্থা! ট্রাফিক পুলিশরা ভীষণ ব্যস্ত!
ট্রাফিক লাইট সিস্টেম প্রবর্তন করলেই সব সমাধান হয়ে যাবে। নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে সবুজ বাতি জ্বলবে গাড়ি চলতে শুরু করবে। লাল বাতি জ্বলবে গাড়ি থেমে যাবে। সুতরাং জ্যাম হওয়ার কোন সুযোগ নেই। পুলিশ এবং কিছু ভলেন্টিয়ার নিয়োজিত থাকবে। যারাই নিয়ম ভঙ্গ করবে, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। "দিন যায় কথা রয়"।
সমস্যা- ৩
বাজারদরের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত পণ্যের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে, কোন নজর দাড়ি নেই! মাঝেমধ্যে দেখা যায় লেখালেখি হয়, জনসাধারণের কষ্টের কথা। বলা হয় চাঁদাবাজির কথা। মাঝেমধ্যে টিসিবি ট্রাক এসে দাঁড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষজন বিরাট লাইন দিয়ে অনেক কষ্ট করে পণ্য গ্রহণ করে। এই অপ্রতুল সরবরাহ বাজার দর স্থিতিশীল করা যাবে না।
আকাশচুম্বি দ্রব্যের লাগাম টেনে ধরার কথা প্রায়ই শোনা যায়! কিন্তু -"দিন যায় কথা রয়। "
দ্রব্যের সর্বরাহ চেইন লাইন প্রবাহ যেন স্থিতিশীল থাকে, এটা নিবিড়ভাবে তদারকি করতে হবে। এর মাঝে চাঁদাবাজি কে রুখে দিতে হবে। বিরোধী দল জনসাধারণের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারে! পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে জোড় আলোচনা হতে পারে!
বাজারে সরকারি নিয়ন্ত্রণের ন্যায্য মূল্যের দোকান খোলা যেতে পারে। প্রতিযোগিতা মূলক কেনা বেচা হলে দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
বিষয়গুলি বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে।
লেখক
দেশবার্তা/এমআর