রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকার ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হকারদের হামলায় অন্তত চারজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন এবং যমুনা টেলিভিশনের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মিরপুর গোলচত্বর এলাকায় এ সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
হামলায় আহত সাংবাদিকরা হলেন- সময় টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান সিফাত ও রিপোর্টার কামরুল ইসলাম, ঢাকা পোস্টের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহমুদ আল মারুফ এবং স্টার টেলিভিশনের এক ক্যামেরাম্যান।
আহত ক্যামেরাম্যান সিফাত বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় আমি ফুটেজ নিচ্ছিলাম। তখন তারা টার্গেট করে আমার ওপর হামলা করে। হামলায় আমার মাথা ফেটে যায়। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি। তাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল, সাংবাদিকদের মারার প্ল্যান করেই তারা শুরু থেকে কাজ করছিল।’
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সময় টিভির রিপোর্টার কামরুল ইসলাম জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পেছন থেকে তাঁর কলার টেনে ধরে তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়। মূলত অপকর্মের ফুটেজ নেওয়ার ক্ষোভ থেকেই সাংবাদিক লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে জানান তিনি।
হামলার শিকার ঢাকা পোস্টের রিপোর্টার মাহমুদ আল মারুফ জানান, তিনি ফেসবুক লাইভ করার সময় তাঁকে সরে যেতে বলা হয়। তিনি সরে যাওয়া সত্ত্বেও পেছন থেকে একজন এসে রড দিয়ে তাঁর কোমরে আঘাত করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত মুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। অভিযান চলাকালে হঠাৎ বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে উপস্থিত হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁরা অভিযানে নিয়োজিত সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালান এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এছাড়া উচ্ছেদ কাজে ব্যবহৃত একটি যান ও পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন হকাররা।
দেশবার্তা/একে