গণতন্ত্রহীনতায় নেতৃত্বের কাঠামোগত দুর্বলতা প্রকট হচ্ছে

এ এইচ এম ফারুক

মতামত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের আধুনিক রাজনীতির ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শিক নেতৃত্বে গঠিত

2026-08-13T18:14:28+06:00
2026-08-13T18:14:28+06:00
বৃহস্পতিবার ● ১৩ আগস্ট ২০২৬,
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
 ইপেপার   ভিডিও 

বৃহস্পতিবার ● ১৩ আগস্ট ২০২৬
চলমান বার্তা:
মতামত
বিএনপির তৃণমূল সংকট
গণতন্ত্রহীনতায় নেতৃত্বের কাঠামোগত দুর্বলতা প্রকট হচ্ছে
এ এইচ এম ফারুক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৪ পিএম 
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের আধুনিক রাজনীতির ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শিক নেতৃত্বে গঠিত এই দলটি বহু দশক ধরে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার আপোসহীন কাণ্ডারির ভূামিকায় দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের ধারাবাহিকতায় আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসীন। কিন্তু ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায়ে থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত এক ধরনের গা-ছাড়াভাব ও শ্লথগতি তৈরি হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কোথাও কোথাও তীব্র কোন্দল ও ক্ষোভ গুমোট হয়ে বিস্ফোরণের অপেক্ষায় রয়েছে। সামনে আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামীসহ উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তির সাথে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ইস্পাতকঠিন ঐক্যে টিকে থাকতে হলে দলকে এখন পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপে পুনর্গঠন করার বিকল্প নেই।

ক্ষমতার মসনদ ও গা-ছাড়াভাব: তৃণমূলে অসন্তোষের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত
রাষ্ট্র পরিচালনায় আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা ছিল যে দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও সুসংহত, গতিশীল ও সুশাসিত হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। দীর্ঘদিন লড়াই-সংগ্রামে অংশ নেওয়া তৃণমূল কর্মীরা আজ এক অদ্ভুত স্থবিরতার মুখোমুখি। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের একাংশের ভেতর এক ধরনের শিথিলতা ও সুযোগসন্ধানী মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মফস্বলে শৃঙ্খলা কমে আসছে এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিচ্ছে।

বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এতটাই তীব্র যে তা সাধারণ নেতা-কর্মীদের হতাশ করছে। ক্ষোভের এই গুমোট পরিবেশ যেকোনো সময় সাংগঠনিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে কেবল প্রশাসনিক শক্তিতে চালিত হওয়া যায়, কিন্তু রাজনৈতিক ও রাজপথের অস্তিত্ব বজায় রাখতে হলে তৃণমূলের এই উসখুস ও ক্ষোভ নিরসন করে সংগঠনে প্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনা জরুরি।

‘জমিদারতন্ত্র’ ও গণতান্ত্রিক চর্চার অনুপস্থিতি
বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে আজ যে বিষয়টি সবচেয়ে ক্ষতিকর তা হলো—এক ধরনের আধুনিক ‘জমিদারতন্ত্র’ বা ডিক্টেটরশিপের চর্চা। মফস্বলের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে কিংবা মহানগর ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কতিপয় প্রভাবশালী নেতা নিজেদের একচ্ছত্র ক্ষমতার মালিক মনে করছেন। তারা মাঠের ত্যাগী কর্মীদের মতামতকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া বা মনোনয়নভিত্তিক পকেট কমিটি গঠনের পূর্বের ধারাবাহিকতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

এই প্রেসক্রিপশন-নির্ভর সংস্কৃতি দলের গণতান্ত্রিক ভিত্তি ধ্বংস করছে। কর্মীদের অংশগ্রহণ ও প্রত্যক্ষ সমর্থনের সুযোগ না থাকায় মফস্বল রাজনীতিতে আদর্শের চর্চা গৌণ হয়ে গেছে। এর স্থান দখল করেছে তোষামোদ, ভাই-রাজনীতি ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক আনুগত্য। কর্মীদের প্রধান কাজ এখন আর জনগণের রায় অর্জন নয়, বরং স্থানীয় ‘নেতা সন্তুষ্ট রাখা’। এতে রাজনীতিতে সুযোগসন্ধানীদের অনুপ্রবেশ ঘটছে আর দীর্ঘদিনের রাজপথের কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।

জেলা-কেন্দ্রের দ্বৈত নেতৃত্ব ও ‘এক নেতার এক পদ’ উপেক্ষার মাশুল
সাংগঠনিক ভারসাম্যহীনতার আরও একটি বড় উৎস হলো কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলা ও উপজেলা কমিটিতে সরাসরি পদ আঁকড়ে থাকা। এই দ্বৈত নেতৃত্বের কারণে স্থানীয়ভাবে কোনো সতন্ত্র ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না। জেলা কমিটিগুলো মূলত দুই-একজন কেন্দ্রীয় নেতার ব্যক্তিগত প্রভাববলয়ের মধ্যে বন্দি হয়ে পড়ছে। ফলে জেলা বা উপজেলা একজনের ইচ্ছে বা পছন্দেই চলছে। অন্যরা সেখানে কোনঠাসা হয়ে রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন কিংবা নিজ দলের মধ্যে গ্রুপিং, দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে পৌছে যাচ্ছে। যা জাতীয় নির্বাচনের বৈতরনী পার হতে পারলেও স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। রক্তারক্তির মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট বিরোধী যে ঐক্য তৈরি হয়েছেম তা চীর ধরতে পার। 

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দীর্ঘকাল ধরে বহুল আলোচিত “এক নেতার এক পদ” নীতি আজ কাগজে-কলমে সীমাবব্ধ। একই ব্যক্তি কেন্দ্রীয় পদে থাকার পাশাপাশি জেলা বা মহানগরের শীর্ষ পদ দখল করে রাখছেন। এর ফলে (১) ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হারিয়ে যাচ্ছে। (২) উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় নতুন নেতারা কোনো দায়িত্বমূলক পদে আসার সুযোগ পাচ্ছেন না। (৩) পদ-দখলের রাজনীতি চরম রূপ নিচ্ছে এবং চর-দখলের স্টাইলে দলের শাখা কমিটিগুলো দখল করা হচ্ছে।

গঠনতান্ত্রিক সংস্কার এনে এটি নিশ্চিত করা জরুরি যে, কোনো পদে থাকা নেতা যখন নতুন কোনো বড় দায়িত্বে নির্বাচিত বা মনোনীত হবেন, তখন যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তার পূর্বের পদটি শূন্য হয়ে যায়। এতে নতুনদের পথ সুগম হবে এবং বহুপদ-আঁকড়ে রাখার প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে।

ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিকদল ও মহিলা দলসহ অঙ্গসংগঠনের কাঠামোগত দুর্বলতা: 
যেকোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রাণভোমরা হলো তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। বিশেষ করে ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিকদল ও মহিলা দলসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। অতীতে বিএনপির ক্ষমতার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে তারা। কিন্তু বিগত বহু বছর ধরে এসব সংগঠনে অভ্যন্তরীণ নির্বাচন বা ভোটের চর্চা নেই বললেই চলে।
প্রশ্ন ওঠে—শেষ কবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় নেতৃত্ব সাধারণ ছাত্রদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছে? কত বছর ধরে যুবদলের তৃণমূল সম্মেলন ভোটাভুটির মাধ্যমে হয়নি?

শ্রমিকদল, মহিলা দল বা অন্যান্য সহযোগী সংগঠনে মাঠের মূল্যায়নে নেতৃত্ব বাছাইয়ের পরিবেশ কোথায়? ভোটের রাজনীতির প্রাথমিক পাঠ শেখার কেন্দ্র হলো এই সংগঠনগুলো। যদি এখানে ভোটের চর্চা না থাকে, তবে এই নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে ডাকসু, জাকসু, চাসকসু বা রাকসুর মতো ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনা কিংবা জাতীয় রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া নেতৃত্ব কখনোই রাজপথের তৈরি করা স্বতঃস্ফূর্ত নেতৃত্বের সমকক্ষ হতে পারে না।

নতুনদের আগমন ও স্বচ্ছতা: কাঠামোগত সংস্কারের মূল চাবিকাঠি
সামনে যে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আসছে, সেখানে নতুন রক্ত সঞ্চালন ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হবে। নতুনদের নেতৃত্বের সুযোগ করে দেওয়ার মধ্য দিয়েই দলের মধ্যে স্বচ্ছতা, উৎসাহ ও গতিশীলতা আসতে পারে।

বর্তমানে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সামনে সবচেয়ে বড় কাজ হলো—দলকে সর্বস্তরে পুরোপুরি গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনা। ওয়ার্ড কমিটির নেতা নির্বাচিত হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নিবন্ধিত কর্মীদের প্রত্যক্ষ ভোটে। একইভাবে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সম্মেলন ডেকে গোপন ব্যালটে বা প্রত্যক্ষ ভোটাভুটিতে বিজয়ী প্রার্থীকে দায়িত্ব দেওয়া আবশ্যক। পকেট কমিটি ও প্রেসক্রিপশন সংস্কৃতির চিরতরে অবসান না ঘটলে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশ, বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই ও আগামী চ্যালেঞ্জ
ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি ও ঝিমিয়ে পড়া ভাব। মনে রাখা দরকার, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল যেমন আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী কিংবা উদীয়মান নতুন নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলো তাদের নিজস্ব কৌশল, সুসংগঠিত জনবল ও নিজস্ব বলয় নিয়ে রাজনীতি মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এসব শক্তির রাজনৈতিক, সামাজিক ও আদর্শিক মোকাবিলার জন্য কেবল ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন একটি সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও গণভিত্তিক শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি।

ডিক্টেটরশিপ বা জমিদারতন্ত্রের ভাবধারা নিয়ে রাষ্ট্র বা দল পরিচালনা করলে সাময়িক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করে দলকে অতল গহ্বরে ডুবিয়ে দেয়। প্রতিপক্ষের সুদূরপ্রসারী কৌশল ও কৌশলগত গণযোগাযোগের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে বিএনপির একমাত্র ঢাল হবে দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, তৃণমূলের অখণ্ড ঐক্য এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির দূরদর্শী উদ্যোগ।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দলকে রাজনৈতিক মাঠের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক ময়দানেও এগিয়ে থাকতে হবে। এজন্য কেন্দ্র থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। যেমন- 

উদীয়মান তরুণ ও কর্মীদের নেতৃত্ব বিকাশে বিশেষ সেল: 
রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিনের ত্যাগী, সম্ভাবনাময় ও উদীয়মান তরুণ কর্মীরা স্থানীয় জমিদারতান্ত্রিক নেতাদের পেষনে পিষ্ট হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে কেন্দ্রের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি 'বিশেষ সেল' গঠন করা প্রয়োজন। যাতে তাদের রক্ষা কবচ হয়ে উঠ সেলটি। পকেট কমিটি, সুপারিশ ও ভাই-রাজনীতির প্রভাবে যেন যোগ্য ও উদ্যমী তরুণরা ঝরে না পড়েন, এই সেলটি তার নিরপেক্ষ তদারকি করবে। নিয়মিত রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ এবং নিবিড় পর্যালোচনার মাধ্যমে তরুণদের যোগ্যতা অনুযায়ী মূল দল ও অঙ্গসংগঠনে উঠে আসার সুনির্দিষ্ট পথ তৈরি করতে হবে।

বুদ্ধিবৃত্তিক পেশাজীবীদের বিশেষ যত্ন ও মূল্যায়ন: 
শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক, আইনজীবী ও গবেষকদের মতো বুদ্ধিবৃত্তিক পেশাজীবীদের যথাযোগ্য সম্মান, সুরক্ষামূলক পরিবেশ প্রয়োজন। যাতে শুধু রাজনৈতিক কমিটির নেতা না হওয়ার কারণে অবহেলা অসম্মানের শিকার না হতে হয়। প্রয়োজনের সময় তাদের রাজনীতিতে কার্যকর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো রাজনৈতিক দল দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা বা মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারে না। তাই পেশাজীবীদের কেবল নির্বাচনী প্রচারণার হাতিয়ার না বানিয়ে, নীতি নির্ধারণী বিষয়, জাতীয় থিঙ্ক ট্যাংক ও সংস্কার পরিকল্পনায় তাদের চিন্তাশীল পরামর্শকে যুক্ত করাই হবে বিএনপির রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয়।

আদর্শের রাজনীতিই উত্তরণের পথ
পরিশেষে বলতে চাই বিএনপির বর্তমান অভ্যন্তরীণ গা-ছাড়াভাব এবং তৃণমূলের অসন্তোষ কোনো সাধারণ লক্ষণ নয়। এটি এক দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। ব্যক্তিস্বার্থ, ভাই-রাজনীতি এবং পদ দখলের অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বের হয়ে দলকে আবার আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক ট্র্যাকে ফেরাতে হবে।

নিয়মিত সম্মেলন, গোপন ব্যালটে নেতা নির্বাচন, “এক নেতার এক পদ” নীতির কঠোর প্রয়োগ, উদিয়মান নতুন কর্মীদের নেতা তৈরির জন্য কেন্দ্রের বিশেষ সেল গঠন এবং অঙ্গসংগঠনগুলোর ভোটাধিকার পুনর্বহাল করাই পারে বিএনপির ঝিমিয়ে পড়া তৃণমূলে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে। তৃণমূলের কণ্ঠস্বর শুনে এবং যোগ্য ও নতুনদের সুযোগ দিয়ে একটি স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক দল গড়ে তোলাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

লেখক: এ এইচ এম ফারুক। সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।


সর্বশেষ সংবাদ 

জুয়া খেলার সময় দুর্বৃত্তদের হামলা, নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ ১
বাগেরহাটে মায়ের নামে কেনা জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন
পিরোজপুরে মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশ জোরদার
সিলেটে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন
ওসমানী হাসপাতালের পাঁচতলা থেকে লাফ দিয়ে রোগীর মৃত্যু

সর্বাধিক পঠিত 

জাবির বটতলায় ওয়াশরুমের স্থান আবারও পরিবর্তন
জুয়া খেলার সময় দুর্বৃত্তদের হামলা, নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ ১
আলোকিত জাতি গঠনে মায়েদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ: আবু সুফিয়ান এমপি
হবিগঞ্জে স্বপ্ন সোসাইটির বৃক্ষরোপণ অভিযান
ঢাবি ছাত্রদলে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে কারা ?
মতামত- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]