বিশ্বজুড়ে তরুণদের জন্য চাকরির বাজার যেন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, বেকারত্বের সামগ্রিক হারও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল; কিন্তু নতুন প্রজন্মের জন্য স্থায়ী, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুযোগ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দক্ষতার ঘাটতি, অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য প্রভাব।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা–আইএলওর প্রতিবেদন ‘তরুণদের জন্য বৈশ্বিক কর্মসংস্থান প্রবণতা–২০২৬’ এই চিত্র তুলে ধরেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণদের বেকারত্ব বাড়ছে এবং শোভন কর্মসংস্থানে পৌঁছানোর পথ আরও কঠিন হচ্ছে। তরুণদের কর্মসংস্থানের সমস্যা শুধু বেকারত্বের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।
আইএলওর হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বে তরুণদের ২০ শতাংশ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এক বছরে আরও প্রায় ৪০ লাখ তরুণ এই অবস্থায় পড়েছে। ২০২৭ সালে হারটি ২০ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নারীদের নিয়ে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণে না থাকা তরুণ নারীদের হার পুরুষদের প্রায় দ্বিগুণ। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় এই বৈষম্য আরও তীব্র। এখানে পুরুষদের তুলনায় প্রায় চারগুণ।
আইএলওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান শ্রমবাজারে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নতুন সুযোগ তৈরি করলেও সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করছে না। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। ফলে তরুণদের জন্য শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন যথেষ্ট নয়; ডিজিটাল দক্ষতা, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ, বিশ্লেষণ এবং পরিবর্তিত প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
দেশবার্তা/এমআর