চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে মোট ২৫৮ জন নারী এবং ৮৩টি কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। একই সময়ে ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, দেশের ১৪টি জাতীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে তথ্য সংকলন করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সাত মাসে যে ৩৪১ নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছে, তার মধ্যে ৬৩টি ঘটনা ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।
ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের পেছনে জমিজমা, মামলা-মোকদ্দমা ও পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে। দেশের সব সংবাদমাধ্যমের তথ্য পাওয়া গেলে নারীর প্রতি সহিংসতার প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে।’
নারীর অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত থাকবে। নারী হত্যা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকব এবং এমন একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করব, যেখানে নারীকে হত্যা, ধর্ষণ বা নির্যাতনের শিকার হতে হবে না।’
মানববন্ধনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু জানান, গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ২৯১ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
সহিংসতার সার্বিক চিত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করে মালেকা বানু বলেন, ‘এসব ঘটনা প্রমাণ করে, নারী ও শিশুরা দেশের কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সহিংসতার প্রবণতা আমরা কমাতে পারছি না।’
এ সময় নারী ও শিশুর প্রতি প্রতিটি সহিংসতার ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে উপস্থিত সংগঠনের নেতারা ঘোষণা দেন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশবার্তা/একে