চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যা ও ভূমিধসে সাতটি জেলায় অন্তত ১৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার কিশোরী এবং ১৭ হাজার ৪৯০ জন গর্ভবতী নারী রয়েছেন।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, বন্যায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৪৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে ৯ হাজার ৭০৭ জন। এ ছাড়া চরম সংকটের মুখে পড়েছে আক্রান্ত এলাকার ১৫ হাজার ৬০০ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রায় ২০০ হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষ।
ইউএনএফপিএর প্রতিবেদনে বান্দরবানকে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাটিতে বন্যায় আটকা পড়েছেন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার গর্ভবতী নারী। পাহাড়ি অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুটি নারীবান্ধব কেন্দ্র ও চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্লাবিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়, আলো ও গোপনীয়তার অভাব এবং পৃথক স্যানিটেশন সুবিধা না থাকায় নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। উদ্ভূত চরম অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এলাকায় বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের মতো ক্ষতিকর প্রবণতা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ত্রাণ কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে সংস্থাটি জানায়, এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৮ জন নারীকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪ হাজার ৫০০টি ডিগনিটি কিট এবং ১ হাজার ৯৫১টি মাসিক স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
তবে মানবিক সহায়তা চালু রাখতে নির্ধারিত ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৯৩০ ডলারের বিপরীতে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৩০ ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে এখনো ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৬০০ ডলারের বড় ধরনের তহবিল ঘাটতি রয়েছে।
এমন অবস্থায় প্রতিবেদনে জরুরি প্রসূতি সেবা অব্যাহত রাখা, যাতায়াতব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা এবং নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটি এই মুহূর্তে বিরাজমান ৮৭ শতাংশ তহবিল ঘাটতি দ্রুত মেটানোর আহ্বান জানিয়েছে।
দেশবার্তা/একে