বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার জেলে জামাল হাওলাদার সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত জামাল হাওলাদার মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬ নম্বর খাওলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব আমতলী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মোরেলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য সমিতির সদস্য ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জামাল হাওলাদার নদীভাঙনে বসতভিটা ও ঘরবাড়ি হারিয়ে গুচ্ছগ্রামে বসবাস করতেন। পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং স্ত্রী-সন্তানদের জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি নিয়মিত সাগরে মাছ ধরতে যেতেন।
তিনি স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
খবর পেয়ে জেলা জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম মোরেলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য সমিতির নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে নিহতের বাড়িতে যান। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এ সময় নজরুল ইসলাম নিহতের পরিবারের জন্য দ্রুত সরকারি আর্থিক অনুদান ও সার্বিক সহায়তার দাবি জানান। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবু রনজিৎ কুমার বলেন, “আমি জামাল হাওলাদারের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আপাতত তাঁর পরিবারকে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করতে দেওয়া হোক। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিধি মোতাবেক সরকারি অনুদান পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
মৎস্যজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, জীবিকার তাগিদে উপকূলের হাজারো মৎস্যজীবী প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। দুর্ঘটনায় একজন মৎস্যজীবীর মৃত্যুতে একটি পরিবার উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারায়। তাই নিহত জামালের পরিবারের মতো অসহায় পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রতিনিধি/আরএইচ