বিরোধপূর্ণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জের কাছে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) জাপান সরকার জানিয়েছে, রাশিয়া ওই এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর বিষয়ে আগাম নোটিশ দেওয়ার পর টোকিও আনুষ্ঠানিকভাবে মস্কোর কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, কুরিল দ্বীপপুঞ্জের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনার বিষয়ে রাশিয়ার নোটিশের জবাবে জাপান প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাপানে এই দ্বীপগুলো ‘নর্দার্ন টেরিটোরিজ’ নামে পরিচিত।
জাপানি সংবাদ সংস্থা কিয়োদোর বরাতে জানা গেছে, রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর এরই মধ্যে ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। তবে ঠিক কখন পরীক্ষা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
কিয়োদো জানিয়েছে, রাশিয়ার নৌবাহিনীর একটি ইউনিট ‘বাস্টিয়ন’ সারফেস-টু-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করে এই পরীক্ষা চালায়। পরীক্ষায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের প্রধান যুদ্ধজাহাজ গাইডেড-মিসাইল ক্রুজার ‘ভারিয়াগ’ এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ‘ওমস্ক’ও অংশ নেয়।
রুশ নৌবহরের দাবি অনুযায়ী, পরীক্ষায় শত্রুপক্ষের জাহাজে হামলার মহড়া চালানো হয়। অন্তত ৩০০ কিলোমিটার দূরের নির্ধারিত সব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র।
কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সাল থেকে দ্বীপগুলো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
চলতি মাসের ১৩ আগস্ট রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব দ্বীপ সফর করেন। তার এই সফরের প্রতিবাদে জাপান টোকিওতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল। পরে মস্কোও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়।
পুতিন পাশের রুশ দ্বীপ সাখালিন সফরের পর বিরোধপূর্ণ দ্বীপগুলোতে যান। সাখালিনে তখন রুশ নৌবাহিনীর সামরিক মহড়া চলছিল। সূত্র: এএফপি
দেশবার্তা/একে