মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। দীর্ঘদিন ধরে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হবে এটি। গতকাল মার্কিন সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এপি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত বুধবার মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছে কার্যক্রম শুরু করেছে জর্জ ওয়াশিংটন। তবে আব্রাহাম লিংকন কবে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবে, কিংবা ফেরার পথে কোনো বন্দরে থামবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে জাহাজটির এক মাসের বেশি সময় লাগতে পারে।
আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাজটি টানা ২৫০ দিনের বেশি সমুদ্রে অবস্থান করেছে, যা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য রেকর্ড। এ দীর্ঘ সময়ে জাহাজের নাবিকদের মানসিক চাপ, স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং খাদ্য ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর ঘাটতি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
জাহাজটির পরিস্থিতি নিয়ে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা প্রতিরক্ষা বিভাগের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপিত বলে মন্তব্য করেছেন।
বিমানবাহী রণতরীর দীর্ঘদিনের মোতায়েন শুধু নাবিকদের ওপরই চাপ সৃষ্টি করে না; এতে জাহাজ ও এর সরঞ্জামের ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাত কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনর্বহাল করা অবরোধ কার্যকর রাখছে মার্কিন নৌবাহিনী।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা জানায়নি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ অবশ্য বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ অবরোধ ‘অনির্দিষ্টকাল’ চালিয়ে যেতে পারবে।
নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে জর্জ ওয়াশিংটনের মোতায়েনের ফলে এ অঞ্চলে একইসঙ্গে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। অন্যটি হলো ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক মাসের মধ্যে আরেকটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানো হতে পারে। তবে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান যে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে, জর্জ ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন তারই একটি বড় উদাহরণ।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম গোলার্ধে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
দেশবার্তা/এমআর