বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পরিচালিত বিশেষায়িত শিশুদের স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শন করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত স্কুলটি পরিদর্শনে গেলে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বাফওয়া) ও আদার্স উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাবের (ওডব্লিউসিসি) সভাপতি সালেহা খান। এ সময় বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়।
পরিদর্শনকালে ডা. জুবাইদা রহমান স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন থেরাপি সুবিধা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি স্কুলে চলমান হাইড্রোথেরাপি, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, সাইকোলজি ও মিউজিক থেরাপি কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।
স্কুলটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান অতিথিকে অবহিত করেন ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলের অধ্যক্ষ। তিনি স্কুলের শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম, থেরাপি সুবিধা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ সার্বিক পরিচালনা পদ্ধতি তুলে ধরেন। বর্তমানে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৮ জন শিক্ষক ও থেরাপিস্ট এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
পরবর্তীতে ডা. জুবাইদা রহমান বাফওয়ার অন্যতম সামাজিক উদ্যোগ ‘বাফওয়া কর্নার’ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বাফওয়া ক্রাফটস অ্যান্ড বুটিক, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রকল্প এবং বাফওয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল হোমের কার্যক্রম দেখেন ও প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রী ঘুরে ঘুরে প্রত্যক্ষ করেন।
পরিদর্শন শেষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং বাফওয়া গোল্ডেন ঈগল নার্সারির শিক্ষার্থীদের যৌথ অংশগ্রহণে আয়োজিত এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধান অতিথি। ডা. জুবাইদা রহমান ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সুযোগ-সুবিধা এবং নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে বাফওয়ার উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (প্রশাসন), বাফওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভানেত্রী ও সদস্যবৃন্দ, বাফওয়া এ কে খন্দকার ও বাশারের সভানেত্রী ও সহ-সভানেত্রীবৃন্দসহ বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির (বাফওয়া) উদ্যোগে ২০২১ সালে ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি সর্বোচ্চ পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক ও একজন সিস্টার বা ব্রাদারের তত্ত্বাবধানে এখানে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে এ পর্যন্ত বহু সংখ্যক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু মূলধারার শিক্ষায় যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে কিছু শিশুকে সহকারী থেরাপিস্ট হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দেশবার্তা/একে