ভিডিও বক্তব্যে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাযাকাল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মর্যাদার নারী কর্মকর্তা বুশরা বানুকে বদলি করা হয়েছে। দেশটির অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আইপিএস পাস করে পুলিশে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তার বদলি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
খগড়পুরে অতিরিক্ত এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বুশরা বানু। গত ১২ সেপ্টেম্বর আইপিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া একটি ভিডিও বক্তব্যে শুরুতেই তিনি ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে সালাম দেন। বক্তব্যের মাঝে ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করেন এবং শেষে বলেন ‘জাযাকাল্লাহ’।
ভিডিওটি প্রকাশের পর বুশরা বানুর বক্তব্যের সমালোচনা করে ‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামে একটি হিন্দু সংগঠন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সংগঠনটি প্রশ্ন তোলে, ওই বক্তব্যে কেন ‘জয় হিন্দ’ ও ‘বন্দে মাতরম’ শব্দ ব্যবহার করা হয়নি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের হোম সেক্রেটারিকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তাদের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বুশরা বানুর বক্তব্যে ধর্মীয় শব্দের পরিবর্তে জাতীয়তাবাদী অভিবাদন ব্যবহার করা উচিত ছিল।
এ বিষয়ে সংগঠনটি বলেছে, “তিনি তার বক্তব্য শুরু করেছেন আসসালামু আলাইকুম বলে। ইনশাআল্লাহ শব্দ ব্যবহার এবং শেষে জাযাকাল্লাহ বলেছেন। কিন্তু বক্তব্যে বন্দে মাতরম বা জয় হিন্দ ব্যবহার করেননি। ভারতের একজন কর্মরত অফিসার হিসেবে নিরপেক্ষ থাকা উচিত এবং যখন জনগণের সঙ্গে কথা বলবেন তখন জাতীয় শব্দ ব্যবহার করতে হবে। আমরা তার বক্তব্য ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে বলেছি।”
এরপর বুশরা বানুকে অতিরিক্ত এসপির পদ থেকে সরিয়ে আর্মড পুলিশের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট হিসেবে বদলি করা হয়।
ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
দেশবার্তা/আরএইচ