যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ আকার নিয়েছে হাম। দেশটিতে এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এরই মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে চতুর্থ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে হামজনিত চারটি মৃত্যুর সব কটিই ঘটেছে পেনসিলভানিয়ায়।
পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্যসচিব ডেবরা বোগেন এক বিবৃতিতে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে পেনসিলভানিয়ায় এবারই সবচেয়ে বড় হাম ছড়িয়ে পড়েছে।
হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এবং আরও মৃত্যু প্রতিরোধে অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডেবরা বোগেন। এ জন্য মানুষকে হাম সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানানো এবং হাম, মাম্পস ও রুবেলা প্রতিরোধী টিকা (এমএমআর) পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। এ টিকাই কয়েক দশক ধরে হাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছে দাবি করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯২ সালের পর এ বছরই হাম পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। হামে আক্রান্ত প্রতি ১ হাজার মানুষের মধ্যে ১ থেকে ৩ জন নিউমোনিয়া ও স্নায়বিক জটিলতার মতো কারণে মারা যেতে পারেন। পাশাপাশি, হামে আক্রান্ত প্রতি পাঁচজনের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
এদিকে, পেনসিলভানিয়ার কৃষিপ্রধান ল্যাঙ্কাস্টার ও মিফলিন কাউন্টিতে হাম সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। এছাড়া, ইউটা, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া ও টেক্সাসেও কয়েক ডজন করে হাম শনাক্ত হয়েছে।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০০টির বেশি হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ২০০০ সালে দেশটিতে হাম নির্মূলের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে, সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে সে অর্জন ধরে রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে, বিশ্বজুড়ে টিকা দিয়ে প্রতিরোধ করা যায় এমন রোগগুলোর মধ্যে শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এখনো হাম।
দেশবার্তা/এমআর