ভাদ্রের বাতাসে যেন মিশে আছে পাকা তালের মিষ্টি ঘ্রাণ। গ্রামবাংলার পরিচিত এই মৌসুমি ফল এখন নরসিংদী ও শিল্পনগরী মাধবদীর শহর ও গ্রামের হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে। বাজারে তাল দেখলেই অনেকের মনে পড়ে যায় শৈশবের দিনগুলো। মনে পড়ে পাকা তালের পিঠা-পুলি, তালের বড়া, পায়েস আর মিষ্টি রসের চেনা স্বাদ।
একসময় বর্ষার শেষভাগে গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি বাড়ির আশপাশে দেখা মিলত সারি সারি তালগাছের। ভাদ্র মাস এলেই গাছের নিচে পড়ে থাকত পাকা তাল। বাড়ির নারীরা সেসব তাল কুড়িয়ে রস বের করে তৈরি করতেন নানা রকম মুখরোচক খাবার। তালের রসে ভরে উঠত রান্নাঘর, আর এর ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ত উঠানজুড়ে।
সময় বদলেছে। মানুষের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসেও এসেছে পরিবর্তন। তবে তালের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো কমেনি। নরসিংদীর বড় বাজার ও মাধবদী পৌর শহরের বিভিন্ন হাট-বাজারে বর্তমানে পাকা তাল বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।
নরসিংদীতে তালের চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। স্থানীয় বাজারে আকারভেদে পাকা তাল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭০/৮০ থেকে ১২০/৩০ টাকা দরে। তালের পাশাপাশি তালের শাঁসও মৌসুমে ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
মাধবদী বাজারের তাল বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, আগে গ্রামের রাস্তার পাশে কিংবা বাড়ির উঠানে সহজেই তাল পাওয়া যেত। এখন তালগাছ কমে যাওয়ায় আগের মতো তাল পাওয়া যায় না। ফলে নরসিংদীর বাজারে তালের দামও বেড়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে মৌসুমি তাল বিক্রি করে আয় করছেন অনেক ছোট ব্যবসায়ী। ক্রেতাদের অনেকের কাছে তাল শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও শৈশবের স্মৃতি।
পাকা তাল দিয়ে তৈরি তালের বড়া, পিঠা, পায়েসসহ নানা খাবার এখনো মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়। তাল এলেই যেন ফিরে আসে ফেলে আসা দিনের কিছু চেনা ছবি—মাটির উঠান, বর্ষার বিকেল আর পরিবারের সবাইকে ঘিরে থাকা এক টুকরো আনন্দ।
তবে তালগাছ কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এই ঐতিহ্যবাহী ফলের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। তালগাছ শুধু ফলই দেয় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও এর ভূমিকা রয়েছে। তাই নতুন করে তালবীজ ও চারা রোপণের উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
হারিয়ে যেতে বসা তালগাছের সারি ফিরিয়ে আনতে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ভাদ্রের বাতাসে পাকা তালের ঘ্রাণ শুধু একটি ফলের মৌসুমের বার্তা নয়; এর সঙ্গে মিশে আছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, পারিবারিক বন্ধন আর শৈশবের মধুর স্মৃতি।
প্রতিনিধি/আরএইচ